Left-Congress alliance: কংগ্রেসের অন্যায় আবদার মানতে নারাজ সিপিএম! সমস্যার মুখে জোট

এই দুই দলেরই বাংলায় সেইরকম দাপট আর নেই। আঞ্চলিকতার ভেদে কংগ্রেসের বাংলার বেশ কিছু জায়গার উপর দখল থাকলেও সার্বিক বাংলায় কখনই সেইভাবে শাসন কায়েম করতে পারেনি কংগ্রেস। কিন্তু বাংলার মাটিতে দীর্ঘ ২৪ বছর শাসন করার রেকর্ড রয়েছে সিপিএমের। কিন্তু এই দুই দলেরই বাংলায় ক্ষমতা এখন অস্তমিত। বামকে সরিয়ে বাংলার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বিজেপি।
আর তাই বাংলায় পদ্ম ফুল-ঘাসফুল কে কাটতে এক হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে কাস্তে হাতুড়ি ও হাত। জোট যে হচ্ছে সেই বিষয়ে গ্রিন সিগন্যাল মিললেও একাধিক বিষয়ে এই দুই দলের মধ্যে রয়েছে অন্তরায়। আর গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আসন রফা নিয়ে প্রথমবার মুখোমুখি বসেই তা টের পেল দুই শিবির। এদিন জোটের জন্য প্রথম সলতে পাকাতে আলোচনায় বসেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য, আব্দুল মান্নান, ফরওয়ার্ড ব্লকের নরেন চট্টপাধ্যায়, সিপিআইএমের স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও আরএসপি-র মনোজ ভট্টাচার্য। 

সূত্র মারফত খবর বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বৈঠকে ১৪৫টি আসনের দাবি জানায় কংগ্রেস। তবে কংগ্রেসকে এতগুলি আসন ছাড়তে নারাজ বাম গোষ্ঠী। শুধু তাই নয়, বাম শরিকদের যে এলাকাগুলিতে এখনও শক্তি রয়েছে, সেখানেও নিজেদের আসন দাবি করেছে কংগ্রেস।

আর এখানেই নিজেদের ক্ষতি করে কংগ্রেসের হাত ধরতে নারাজ বাম শরিকরা। তাঁদের স্পষ্ট জবাব, বাংলায় যে এলাকাগুলিতে এখন‌ও বামদলের শক্তি রয়েছে, সেগুলিও ছেড়ে দিলে দলের আর কোনও অস্বস্তিই থাকবে না। কর্মী-সমর্থকরাও উৎসাহ হারাবেন। শরিকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে জোটে অনাগ্রহী সিপিএমও। ২০১৬ সালে বাম-কংগ্রেসের খাতায়-কলমে জোট হয়নি, তা ছিল নির্বাচনী সমঝোতা। সে কারণে বেশ কিছু আসনে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইও হয়েছিল। ২০১৬ সালে সিপিএম লড়েছিল ১৪৮টি আসনে। ১১টি আসনে সিপিআই। আরএসপি ১৯টি আসনে। ফরওয়ার্ড ব্লক, ডিএসপি ও এনসিপি যথাক্রমে ২৫, ২ ও ১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল।

বাংলায় বিজেপিকে জমি ছাড়া যাবে না বলে দুই শিবিরই একমত। তৃণমূলকে আক্রমণের প্রশ্নেও একসুর বিমান বসু ও প্রদীপ ভট্টাচার্যের। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে এখনও কণ্টকাকীর্ণ জোটের পথ। ২০১৯ সালে তো এই আসন রফা না হওয়াতেই ভেস্তে গিয়েছিল যাবতীয় আলোচনা। আলাদা আলাদা লড়াই করেছিল বাম-কংগ্রেস। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দুই শিবিরের শীর্ষ নেতাদের নমনীয় হওয়া উচিত বলেই মনে করছেন জোটপন্থীরা।

RELATED Articles