উপচে পড়া ভিড় গঙ্গাসাগরে, করোনা আতঙ্কের মধ্যেই চলছে সমুদ্রস্নান, দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভাইরাস

রাজ্যের সিদ্ধান্তের পক্ষেই রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বলা হয়েছে যে গঙ্গাসাগর মেলা বন্ধ হবে না। কড়া করোনা বিধি মেনে মেলার সমস্ত আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করতে বলা হয়েছে হাইকোর্টের তরফে।

কোনও জায়গায় যাতে ৫০ জনের বেশি জমায়েত না হয়, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভিড় ক্রমেই বাড়ছে, এমনটাই অভিযোগ উঠল। ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ১১০ জন চিকিৎসক, নার্স, ও স্বাস্থ্যকর্মীর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। সবমিলিয়ে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলার অন্তর্গত গঙ্গাসাগরে মেলার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। গতকাল, শুক্রবার তীর্থযাত্রীদের বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সূত্রের খবর, এরপরও সেখানে ভিড় উপচে পড়ছে। কলকাতা হাইকোর্ট যে নজরদারি কমিটি গড়ে দিয়েছে তা কতটা কাজ করছে সেটাও দেখার। সংক্রমণ যেন ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

যদিও প্রশাসন দাবী করছে যে সমস্ত রকমের করোনা বিধিনিষেধ মেনেই গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। তবে এও দেখা যাচ্ছে যে পুলিশ-প্রশাসনের সামনে লোকজন মাস্ক পরে রয়েছেন, কিন্তু যেখানে পুলিশ নেই, সেখানে লোকজনের মুখে মাস্কও নেই।

নানান জায়গায় লোকজন জটলা পাকিয়ে রয়েছেন, এমন চিত্রও ধরা পড়েছে। শারীরিক দূরত্বের কোনও বালাই নেই। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও লোকজন সমুদ্রে নেমে স্নান করছে বলে খবর মিলেছে।

পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ের ছবি দেখা গিয়েছে কচুবেড়িয়া ঘাটে। সামাজিক দূরত্ব নেই কোথাও। কাকদ্বীপের লট ৮ ঘাটে ভিড় হয়েছিল। এই বিষয়ে মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা বলেন, “প্রস্তুতিপর্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে হয়ে গিয়েছে। গঙ্গাসাগর মেলায় একশো শতাংশ টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে। আদালতের রায় মেনে চলা হবে”। এই ভিড়ের জেরে যে করোনা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

RELATED Articles