ভবানীপুর ও শান্তিপুরকে এক করে দেখার কোনও মানে হয় না, তবে কী ফের জোট বাঁধছে বাম-কংগ্রেস?

বাংলায় উৎসবের মধ্যেই ফের উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। দুর্গাপুজোর পরই রাজ্যের বাকি চার কেন্দ্র অর্থাৎ গোসাবা, শান্তিপুর, দিনহাটা ও খড়দহতে উপনির্বাচন। কমিশনের এমন সিদ্ধান্তকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিলেও নির্বাচনে তো লড়তেই হবে। এই কারণে প্রার্থী বাছাই চলছে বামেদের। কিন্তু সমস্যা দাঁড়িয়েছে শান্তিপুরকে নিয়ে। সেখানে এবারেও বাম-কংগ্রেস জোট থাকবে কী না, এ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

তবে কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, ভবানীপুর ও শান্তিপুরকে এক করে দেখার কোনও কারণ নেই। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রার্থী তাই কংগ্রেস প্রার্থী দিতে চায়নি। কিন্তু শান্তিপুর নিয়ে সেরকম কোনও ব্যাপার নেই। তবে কিছুদিন আগেই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি জানান যে ভোট মিটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাকি জোটও শেষ হয়ে গিয়েছে। এই কারণে শান্তিপুরের প্রার্থী নিয়ে বামেরা প্রথমে কোনও কথা বলতে নারাজ। বরং কংগ্রেসের দিকে বল ঠেলে দিয়ে তাদের মন্তব্য, “আমরা তো জোট ভাঙিনি। ওরা আগে কী করবে জানাক। ওদের ভাগে থাকা ভবানীপুরে ওরাই প্রার্থী দেয় নি”।

বলে রাখি, একুশের  নির্বাচনে শান্তিপুরে কংগ্রেস প্রাথী ছিলেন আইনজীবী ঋজু ঘোষাল। তিনি আবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। যে চার আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা, শান্তিপুর বাদে বাকি তিনটে আসনেই বামেদের প্রার্থী ছিল। ফলে ওই তিনটি আসন নিয়ে সমস্যা হবে না বলেই দাবী বাম নেতৃত্বের।

তবে প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাথমিকভাবে বামেদের অন্দরে যা আলোচনা চলছে, তাতে দিনহাটায় প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের আব্দুর রউফ। খড়দহে রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে পারেন বাম ছাত্র যুব আন্দোলনে নেতা দেবজ্যোতি দাস। আর এদিকে গোসবার আসনে বামেদের ময়দানে নামার সম্ভাবনা আরএসপির অনিল চন্দ্র মণ্ডলের।

আরও পড়ুন- কড়া ঘেরাটোপের মধ্যে ভোট, ভবানীপুরের সবকটি বুথেই জারি করা হল ১৪৪ ধারা

ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর অধীর চৌধুরী জানিয়েছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তরফে কোনও প্রার্থী দেওয়া হবে না। এমনটাই নির্দেশ এসেছে দিল্লির হাই কমান্ড থেকে। তিনি এও বলেন, ‘কংগ্রেস কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধীনে আমি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধীনেই প্রত্যেকটা পার্টি কর্মী। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলেছে মমতার বিরুদ্ধে লড়াই করো না। তাই আমরা করছি না। সাধারণ কগ্রেস কর্মীদের বা সমর্থকদেরও দিল্লির সেই বার্তা বোঝা উচিত”।

এদিকে কিছুদিন আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, “ইলেকশন ছিল, মোর্চা ছিল। ইলেকশন শেষ, মোর্চাও শেষ”। এরপর উদাহরণ টেনে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “জনতা পার্টি এসেছিল ইন্দিরা গান্ধীকে হারাতে। হারিয়ে দিল তারপর জনতা পার্টি শেষ। ইমিডিয়েট পারপাসের জন্য ফ্রন্ট তৈরি হয়। ইভেন্ট শেষ হলে পারপাস থাকে না”।

RELATED Articles