কলকাতা আবারও রাজনৈতিক সংঘর্ষের সাক্ষী। যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে বাঘাযতীনে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝে সরগরম রাজনৈতিক মহল। ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে চাপানউতোর তুঙ্গে। একদিকে তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সিপিএমের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, বিক্ষোভকারীদের উস্কানিতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বারবার অশান্তির সাক্ষী থাকছে শহর কলকাতা। এবার বাঘাযতীন আই ব্লকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। অভিযোগ, কর্মসূচির সময় সিপিএম পার্টি অফিসের সামনে হামলা চালানো হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। সিপিএমের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে, আর তৃণমূল বলছে, গোটা বিষয়টিই সাজানো নাটক।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ছাত্র-যুব সংগঠন SFI এবং DYFI-এর পক্ষ থেকে বাঘাযতীন আই ব্লকে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় সিপিএমের অভিযোগ, ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শঙ্কর পাল ও আরও কয়েকজন হামলা চালায়। বামেদের দাবি, তাদের মহিলা কর্মীদের শ্লীলতাহানি করা হয় এবং ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এই ঘটনায় নেতাজি নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে সিপিএম নেতৃত্ব।
আরও পড়ুনঃ সন্দেহ মানেই বন্দি জীবন! কারাগারে বন্দি জীবন! বিশ্বাস না করলেই স্ত্রীকে ‘লোহার অন্তর্বাস’!
তবে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলও। কাউন্সিলর মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তাঁর কথায়, “SFI ও DYFI কর্মীরা প্রথমে আমার গাড়িতে ধাক্কা মারে। সেই সময় আমাদের ছেলেরা গিয়ে জানতে চায়, কেন এমন করছে। উত্তেজনা ছড়ায় তখনই। কিন্তু পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে। আমাদের তরফ থেকে কোনও হামলা চালানো হয়নি।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, তৃণমূল আশ্রিত গুণ্ডারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে এবং প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তাঁরা আরও বড় আন্দোলনে নামবেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বাম শিবির ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এই সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে, রাজনৈতিক মহল এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে।





