সামনেই উপনির্বাচন (by-election)। এর আগে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি (Sagardighi)। প্রাক্তন যুব কংগ্রেস সভাপতিকে গ্রেফতার করা নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড। আজ, শনিবার সকাল থেকেই বাম-কংগ্রেসের (CPM-Congress) কর্মী-সমর্থকরা সাগরদিঘি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বেলার দিকে এই বিক্ষোভে সামিল হন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীও (Adhir Chowdhury)। তৃণমূলের পরামর্শেই পুলিশ এই গ্রেফতার করেছে কংগ্রেস নেতাকে।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল, শুক্রবার গভীর রাত। এদিন সাগরদিঘির পাটকেলভাঙার গৌরীপুর এলাকা থেকে প্রাক্তন যুব কংগ্রেস সভাপতি সাইদুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধ’র্ষ’ণের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই জানানো হয়। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবী, ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির জন্যগ্রেফতার করা হয়েছে কংগ্রেস কর্মীকে।
তদের অভিযোগ, তৃণমূল নেতৃত্বের পরামর্শেই এই কাজ করেছে পুলিশ। অবিলম্বে ওই কংগ্রেস কর্মীকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবীও তোলা হয়। এই দাবী জানিয়েই সাগরদিঘি থানা ঘেরাও করেন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা। তাদের সমর্থন করে বামেরাও। এদিন বেলার দিকে বিক্ষোভস্থলে যান কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীও। পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।
রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত সাহার মৃত্যুর ফলে সাগরদিঘিতে উপনির্বাচন হচ্ছে। এখানে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি বাড়ালা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। প্রাক্তন বিধায়ক সুব্রত সাহার সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ লেগেই থাকত। ২০১৬ সালে তিনি যখন যুব সভাপতি ছিলেন, সেই সময় সুব্রত সাহার বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।
সেই সময় নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদে সভা করতে এসে দলবিরোধী কাজের জন্য তাঁকে বহিষ্কার করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুমাস আগেই সাগরদিঘির বিধায়ক সুব্রত সাহার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাগরদিঘির ব্লক সভাপতি করা হয়।
এই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন এই জেলার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বাইরন বিশ্বাস। তাঁকে বামেরাও সমর্থন করছে। অন্যদিকে, বিজেপির হয়ে লড়ছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দিলীপ সাহা। তিনি ২০১৬ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নবগ্রাম বিধানসভা থেক ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে সিপিএম প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের হয়ে টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন দিলীপ সাহা।





