ভোটে হেরে টেলিভিশনের পর্দায় দল বিরোধী মন্তব্য! তন্ময় ভট্টাচার্যকে শো-কজ করলো আলিমুদ্দিন

একদা গড় হিসেবে পরিচিত উত্তর দমদম কেন্দ্রে শোচনীয় ভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে সিপিএম। বলা বাহুল্য গোটা রাজ্য জুড়েই  বিপর্যায় ছবিটা পরিষ্কার। একটিও আসন থেকে জিততে পারেনি ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করা দলটি।

আর ভোটে এইরকম শোচনীয়’ হারের পরই এবিপি আনন্দের পর্দায় দল বিরোধী মন্তব্য করেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য। স্পষ্ট বাদী হিসেবে পরিচিত তন্ময় ভট্টাচার্য কোনরকম রাখঢাক না রেখেই এইরকম বিপর্যয়ের দায়ভার চাপান দলের মাথাদের ওপর।

আর এবার এই কারণেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শোকজের মুখে পড়লেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা দমদম উত্তরের সিপিএম প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্য। চিঠি পাঠিয়ে তাঁকে আচরণের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলল সিপিএম জেলা কমিটি। যদিও এই বিষয় নিয়ে এখন‌ও মুখ খোলেননি তন্ময় ভট্টাচার্য।

ভোটে হেরে টেলিভিশনের পর্দায় দল বিরোধী মন্তব্য! তন্ময় ভট্টাচার্যকে শো-কজ করলো আলিমুদ্দিন

এদিন অর্থাৎ বুধবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির তরফে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয় এই প্রবীণ নেতাকে l

আরও পড়ুন- মমতার ছবিতে কালো কালি, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল অফিসের সামনে বিজেপির ছাত্র পরিষদ

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর দমদম কেন্দ্রের জয়লাভ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি প্রার্থী অর্চনা মজুমদার। আর সর্বশেষ আসন পেয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য। এরপর অবশ্য সিপিএম প্রার্থী সৌজন্যতা রক্ষা করে নতুন বিধায়ককে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। দল সেখানে মন্তব্য না করলেও টেলিভিশনের  একটি টক শোতে  তিনি নাম না করে হারের জন্য সিপিএমের পক্ককেশদের প্রকারান্তরে দায়ী করেন। এমনকী তরুণ প্রার্থীদের এই বিপর্যয়ের পিছনেও আলিমুদ্দিনের কঠোর নিয়মই দায়ী, বলে অভিযোগ করতে শোনা যায় তাঁকে। তিনি স্পষ্ট বলেন এই হারের দায় নিতে হবে দলের মাথাদের‌ই যাঁরা নির্দেশ দেন‌। আর এই সব দল বিমুখী মন্তব্য করেই জেলা নেতৃত্বের রোষানলে তন্ময় বাবু।

আরও পড়ুন- ‘ভোটে হেরেও মুখ্যমন্ত্রী হলেন, রাজ্যে এর আগে এমন হয়নি’, মমতাকে তীব্র তোপ শুভেন্দুর

চিঠিতে জেলা কমিটি অবশ্য  উল্লেখ করেছে, এসব তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। দল তা অনুমোদন করে না। তবে কেন‌ও দলের এতদিনকার নেতা আচমকা এ কথা বলে বসলেন, তা নিয়ে তাঁকে জবাবদিহিও করতে হবে। এ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয় জেলা কমিটির তরফে। দল হিসেবে সিপিএম বরাবরই কঠোর এবং কঠিন অনুশাসন মেনে চলে। দল বিরোধী মন্তব্য একেবারেই সহ্য করেনা আলিমুদ্দিন। সিপিএমের স্বর্ণযুগ হোক বা বর্তমান পরিস্থিতি শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় যে এতটুকু‌ও আপস করবে না তাঁরা তা ফের প্রমাণিত।

RELATED Articles