গতকাল, সোমবার মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) একটি জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখান থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দেন তিনি। সিপিএমকেও (CPM) আক্রমণ করতে ছাড়েন নি তিনি। এরপরই তাঁর মন্তব্যে উঠে আসে বাম-রাম জোটের (CPM-BJP alliance) কথা। মুখ্যমন্ত্রীর সেই মন্তব্যে বেশ চটেছে লাল বাহিনী। এবার এর পাল্টা মমতাকে আক্রমণ শানালেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)।
গতকাল মুর্শিদাবাদের ওই সভা থেকে বাম-রাম জোট নিয়ে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “১০০ দিনের কাজ করে যাঁরা, তাঁরা গরিব মানুষ। কাজ করেও কেন তাঁরা টাকা পাবে না। বিজেপি-সিপিএমকে জবাব দিতে হবে। রাম-বাম-শ্যাম সব এক হয়েছে। আমাকে ভাতে মারতে গিয়ে বাংলার মা বোন, কৃষক-শ্রমিকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে”।
মমতার এহেন মন্তব্যের পাল্টা আক্রমণ করে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আজ সাগরদীঘিতে মিটিং করেছেন। সরকারি জনসভা করেছেন? সরকার আবার জনসভা করে নাকি? সরকার জনসভা করলে বক্তা কে? মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে মুখ্যসচিব বক্তব্য রেখেছেন? জেলাশাসক বক্তব্য রেখেছেন? সভাধিপতি বক্তব্য রেখেছেন? না। আসলে এটি মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভাষণ। উনি সরকারী অনুষ্ঠান থেকে রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন। সরকারি মিটিং রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়ার জায়গা নাকি”?
বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বামনেতা বলেন, “বিজেপির সঙ্গে সরকার করেছে তৃণমূল। যতদিন পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীরা ক্ষমতায় ছিল পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সুযোগ পায়নি। মুখ্যমন্ত্রী তাদের ডেকে নিয়ে আসবেন, ধরে নিয়ে আসবেন, আরএসএস-র শাখা বাড়াবেন, প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ্’র প্রশস্তি গাইবেন, আর বলার সময় বলবেন রাম-বাম! এগুলো আরএসএস-র কথায় মুখ্যমন্ত্রী চলছেন। আরএসএস চায় কেউ সরাসরি বিজেপি করবেন, কেউ পরোক্ষ ভাবে করবেন। অমিত শাহ্’রা সরাসরি বিজেপি করেন। মমতা বন্দোপাধ্যায় পরোক্ষভাবে বিজেপি করেন”।
তাঁর আরও সংযোজন, “রাজ্যের বহু পাওনা আছে এটা ঠিক কথা। সেটা পেতে হবে। এই দাবীটা আমরা সবাই করছি। আবার কেন্দ্রীয় সরকার বলছে আমরা যে টাকাটা পাঠালাম তার হিসেব কোথায়? হিসেবটাও কিন্তু দিতে হবে। রাজ্যের সরকার হিসেব দেবে না, আর দিল্লি সরকার টাকা পাঠাবে না। এর মধ্যে ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। আমাদের দাবী প্রাপ্য ও ন্যায্য টাকা ১০০ দিনের কাজ সহ মানুষকে দিতে হবে”।





