সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ত্রিস্তরীয় এই নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল, বুধবার ইস্তেহার প্রকাশ করা হল বামেদের তরফে। তাতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানান জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলিকেই হাতিয়ার করে প্রচারে উদ্যত হয়েছে লাল শিবির। আর এখান থেকেই উঠে এল নানান প্রশ্ন।
এই ইস্তেহারে সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য জনকল্যাণমুখী প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। সামাজিক সুরক্ষা প্রয়োজনভিত্তিক হবে। অর্থাৎ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নানান প্রকল্প যে গোটা রাজ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে, তা পুরস্কারও জিতে নিয়েছে, তা অস্বীকার করতে পারে নি সিপিএম। কন্যাশ্রী হোক বা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রূপশ্রী, বা স্বাস্থ্যসাথী, এখন এই প্রকল্পগুলিকে হাতিয়ার করে পঞ্চায়েতে এগোচ্ছে বামেরাও।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্প নিয়ে বামেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতেও দেখা গিয়েছে। সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে, তারা জিতলেও রাজ্যের এই প্রকল্পগুলি বন্ধ হবে না। আবার নিজেদের ইস্তেহারে বামেরা এমনও দাবী করেছে যে কন্যাশ্রী বা ২ টাকা কেজি দরে চাল তা বামেদের জমানার। এমনকি, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের জন্য রাজ্য যে কেন্দ্রীয় পুরস্কার পেয়েছে, সেই ১০০ দিনের প্রকল্পও নাকি বামেদেরই লড়াইয়ের ফসল বলে দাবী লাল শিবিরের।
তাদের এই দাবী নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তাদের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পের সাফল্যকে নিজেদের আমলে করা বলে চালিয়ে সিপিএম ক্রেডিট নিতে চাইছে। গতকাল, বুধবার সিপিএম রাজ্য দফতরে বামেদের এই ইস্তেহার প্রকাশ করেন ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। উপস্থিত ছিলেন মহম্মদ সেলিম, সূর্যকান্ত মিশ্র, রবীন দেব, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেন চট্টোপাধ্যায়, তপন হোড় প্রমুখ বাম নেতৃত্ব। এই ইস্তেহারে বামফ্রন্ট পরিচালিত পঞ্চায়েতে বিকল্প কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।
এদিন বিমান বসু জানান, জোটের বিষয়টি নিচুতলার উপরেই রয়েছে। তাঁর কথায়, “তৃণমূল—বিজেপিকে পরাজিত করতে বাম ও সহযোগী দলগুলি একজোট হয়েছে। যেখানে কংগ্রেস—আইএসএফের প্রার্থী আছে সেখানে বামফ্রন্টের প্রার্থী নেই”।





