আগামী ৮ই জুলাই পঞ্চায়েত নির্বাচন। কিন্তু মনোনয়ন পর্ব শুরু হওয়ার দিন থেকেই এই নির্বাচনকে ঘিরে নানান অশান্তির অভিযোগ উঠে এসেছে রাজ্য জুড়ে। কোথাও বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা তো কোথাও আবার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য চাপ, এমন নানান ঘটনা বিগত কয়েকদিনে ঘটেছে রাজ্যে। এই হিংসার জন্য পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই প্রাণ গিয়েছে একাধিকের।
পঞ্চায়েত নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও অবাধে হয়, সেই কারণে হাইকোর্টের আবেদন করা হয় বিজেপি ও কংগ্রেসের তরফে। গত ১৫ই জুন কলকাতা হাইকোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, পঞ্চায়েত নির্বাচনে গোটা রাজ্যে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য ও রাজ্য নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় বটে। কিন্তু হাইকোর্টের রায়কেই মান্যতা দেয় শীর্ষ আদালতও।
এর জেরে নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয় রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে। কিন্তু জানানো হয়, প্রতি জেলায় মাত্র ১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। কমিশনের সেই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল, বুধবার হাইকোর্ট জানায়, ২০১৩ সালের সমান সংখ্যক বা তার চেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইতে হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। অর্থাৎ ন্যূনতম ৮২ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ান মোতায়েন করতেই হবে কমিশনকে। এই রায়কেও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবছে কমিশন।
তবে এই এত কিছুর মধ্যেও কোনও বুদ্ধিজীবীর দেখা মিলল না বিগত কয়েকদিনে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই এত হিংসা, অশান্তি, মৃত্যু, অশান্তি ঠেকাতে আদালতের হস্তক্ষেপ, রায়, এই সবকিছু নিয়ে কোনও বাক্য খরচ করতেই একটু সময় নেন নি রাজ্যের তাবড় তাবড় সব মাথারা যারা কী না যে কোনও ইস্যু নিয়ে নানান সময় নানান বক্তব্য পেশ করে থাকেন।
এখনও পঞ্চায়েত নির্বাচন বাকি, তার আগেই রাজ্যে যে হারে সন্ত্রাস দেখা দিয়েছে, তাতে নির্বাচন চলাকালীন চিত্রটা বেশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আর তা আন্দাজ করেই রাজ্যে পরিবেশ শান্ত রাখতে আদালতের এহেন রায়। তাহলে রাজ্যের খাতিরে, রাজ্যে শান্তির বজায় রাখার খাতিরে সেই ‘বুদ্ধিজীবী’ মুখগুলোর দেখা কেন নেই রাজপথে? তবে কী পরোক্ষভাবে তারাও সেই রাজ্য সরকারের পক্ষ নিয়ে সন্ত্রাসকেই সমর্থন জানাচ্ছেন? এমন প্রশ্ন ওঠা তো বেশ স্বাভাবিক।
রাজ্যের সমস্ত জ্ঞানী তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ যারা কী না সমাজ সংস্কারক, সমাজের নানান ইস্যু নিয়ে মাঝেমধ্যেই বেশ ওয়াকিবহাল হতে দেখা যায় তাদের, তাদের কানে কী তবে এখনও সেই নির্বাচনের সন্ত্রাসের আর্তনাদ পৌঁছয় নি? নাকি মাঝে তারা নিজেরাই সেই আর্তনাদ তাদের অবধি পৌঁছতে দিচ্ছে না? আদালতের এমন রায় বা রাজ্যে এহেন হিংসা, অশান্তি নিয়ে এখনও কেন নিশ্চুপ গোটা বুদ্ধিজীবী মহল? সরকারের থেকে ভীতি নাকি এর নেপথ্যেও রয়েছে অন্য কোনও কারণ?





