বাড়ির পুকুরে স্নান করতে নেমে এ কী বিরল দৃশ্য! পাথরপ্রতিমায় ঘটল ভয়াবহ ঘটনা!

পায়ে পড়ি কুমির মামা….তুমি যে পুকুরে কে তা জানত! স্নান করতে নেমে সামনে পাঁচ ফুটের কুমিরকে দেখে বোধহয় এরকমই মনে হয়েছিল এই গৃহবধূর। অন্যান্য দিনের মতোই আজ সকালে বাড়ির পুকুরে স্নান করতে নেমেছিলাম পাথর প্রতিমার এই গৃহবধূ আর জলে নামতেই চোখে পড়ে সাক্ষাৎ যমরাজ। ভয়ে রীতিমতো চিৎকার শুরু করে দেন তিনি। এরপর বন দপ্তরে খবর দেওয়া হলে তাদের কর্মীরা দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় কুমিরকে জালবন্দী করে নিয়ে যায়।

পাথরপ্রতিমা ব্লকের গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার রাখাল পুর গ্রামের বাসিন্দা অভিমুন্য দাস। শুক্রবার সকালে সেই বাড়ির এক মহিলা সদস্য বাড়ির লাগোয়া পুকুরে স্নান করতে গিয়েছিলেন যেরকমটা রোজ যান। হঠাৎ করেই তিনি দেখতে পান যে পুকুরের একটি হাঁসকে একটি কুমির ধরে রেখেছে। প্রথমে তিনি বিশ্বাস করতে পারেননি যে পুকুরে কুমির চলে আসবে। কয়েক সেকেন্ড পরে হুঁশ ফিরতেই তিনি আর্তনাদ করে ওঠেন। মহিলার চিৎকারে প্রতিবেশীরাও ছুটে যান। ভিড় জমে যায় পুকুরের চারদিকে।অনেকেই ফোন নিয়ে ছবি তুলতে শুরু করে দেন,ভিডিও করেন অনেকে।

গ্রাম পঞ্চায়েতের খবর গেলে পঞ্চায়েত প্রধান প্রদ্যুৎ দেব বর্মন ঘটনাস্থলে আসেন এবং তিনি খবর দেন বনদপ্তরে। বনদপ্তর এর কর্মীরা প্রথমে জাল ফেলে কুমিরটিকে ধরার চেষ্টা করলেও সফল হন না। তারপর পুকুরের জল পাম্প মেশিন দিয়ে কমিয়ে দেওয়া হয় এবং তাকে অনেক চেষ্টার পর জালে আটকানো হয়। এদিনই ভগবতপুর কুমিরপ্রকল্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ওই প্রাণীটিকে।

বন দফতরের আধিকারিকরা বলছেন এই পুকুরটি জগদ্দল নদীর একদম পাশে। এই নদী থেকেই কোনভাবে কোনভাবে কুমিরটি পুকুরে ঢুকে পড়েছিল। ইদানিং পাথর প্রতিমায় কুমিরের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি এখানে এক মৎস্যজীবির জালেও মাছের সঙ্গে ধরা পড়েছিল একটি কুমির ছানা। তবে গ্রামবাসীরা যে তৎপর হয়ে বনদপ্তর কে খবর দিয়েছেন এর জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা।

RELATED Articles