গত বছরের স্মৃতি উস্কে দিয়ে ফের লোকাল ট্রেন বন্ধ বাংলায়। করোনা সংক্রমনের গতিরোধ করতে এই ছাড়া উপায় ছিল না বলছে বিশেষজ্ঞ মহল। কিন্তু মফস্বল থেকে যে মানুষগুলো চাকরির সূত্রে কলকাতাসহ বিভিন্ন জায়গায় যান তাঁরা করেছেন মহা সমস্যায়। এই যাত্রার একমাত্র উপায় লোকাল ট্রেন। সেই ট্রেন বন্ধ হতেই ফের ব্যাপক সমস্যায় আম জনতা।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী পদে তৃতীয়বারের মতো শপথ নিয়েই করোনা নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুযায়ী আগামী ১৪ দিনের জন্য বন্ধ হয় সমস্ত লোকাল ট্রেন।
লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার অন্যতম ভরসা এই লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, হতাশ অনেকেই। তবে সংক্রমণ আর মৃত্যু মিছিল রুখতে আর কোনও উপায় ছিল না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে যে কারণে ট্রেনে ভিড় রোখা হল সেই ভিড় কি সম্পূর্ণভাবে এড়ানো গেল? কারণ বেশিরভাগ মানুষেরই অফিস খোলা। পেটের দায়ে যে সব মানুষকে সকাল থেকে বেরিয়ে পড়তে হয়, তাঁদের কাছে দ্বিতীয় উপায় খোঁজা আবশ্যক। আর তারই ছবি দেখা যাচ্ছে বাস ডিপোগুলোতে। কার্যত লাইন দিয়ে বাসে উঠছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও শহর কলকাতাতেও ধরা পড়েছে এই একই ছবি।
একাধিক বাস ডিপোতে বিশাল ভিড়। লোকাল ট্রেনের ওপর নির্ভর করে যাঁরা কলকাতায় আসেন এবং বাড়ি ফেরেন তাঁরা এদিন সকালবেলায় বাধ্য হয়ে বাসে ওঠার জন্য বাস স্ট্যান্ডে হাজির হন। প্রচুর মানুষের ভিড়, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে গাদাগাদি করে বাসে উঠছেন যাত্রীরা।
আরও পড়ুন- শীতলকুচি ঘটনার ফল! ফের ক্ষমতায় এসেই কোচবিহারের পুলিশ সুপারকে অপসারিত করলেন মমতা
কিন্তু এই ভাবে গাদাগাদি করে বাসের মধ্যে যাওয়ার ফলে করোনার প্রকোপ আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন বাসযাত্রীরা। কিন্তু তাঁদের কিছু করার নেই।
যদিও লোকাল ট্রেন বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মেনে নিচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরাও।
অন্য দিকে, বাসও নেই পর্যাপ্ত। গতকালই মমতা ঘোষণা করেছেন সরকারি বাস ও মেট্রোর সংখ্যা অর্ধেক করে দেওয়া হবে। ফলে বাসের সংখ্যা তুলনায় কম। আর এতেই ভয় বাড়ছে আরও। একসঙ্গে বাসে এত মানুষ যাত্রা করলে কী ভাবে কমবে সংক্রমণ? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।





