আমফানের তীব্রতায় ব‍্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এপার বাংলায়!

প্রবল ক্ষতির মুখে দক্ষিণবঙ্গ। প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে লন্ডভন্ড রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ। ইতিমধ্যেই এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে প্রাণ হারিয়েছেন রাজ‍্যের দু’জন। হাওড়ায় টিনের চাল পড়ে মারা গিয়েছে এক কিশোরী। মিঁনাখায় মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। ঝড়ে গাছ চাপা পড়ে ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। তবে, দুশ্চিন্তার বিষয় হল ঝড়ের শেষাংশ ফের সোনারপুরের দিক থেকে ঢুকছে কলকাতার দিকে। ফলে ঝড়ের গতিবেগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
জেলাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আপাতত জানা যাচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলী, হাওড়া ও কলকাতাতে চলছে প্রবল বেগে ঝড় ও বৃষ্টি। ইতিমধ্যেই উপকূলে প্রায় ১৫০-১৬০ কিলোমিটার বেগে তাণ্ডব চালাচ্ছে আমফান। কলকাতাতে বইছে ১০৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়। তবে, আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতায় ঝড়ের গড় গতিবেগ ৯০ কিলোমিটার।

ইতিমধ্যেই খবর পাওয়া যাচ্ছে, কচুবেরিয়ার জেটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে। কাকদ্বীপ, কৈখালি, কুলতলি, পাথরপ্রতিমায় একের পর এক বাঁধ ভেঙে পড়েছে। বানভাসী হতে চলেছে বহু গ্রাম। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কিছু এলাকার কাঁচা বাড়ি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গোসাবার ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত ৫০ হাজার মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে এনেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ ছাড়াও কুলতলি থেকে ১০ হাজার মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শ্রাবণী ঘোষ (৪৬) নামে এক মহিলা বাড়ির দেওয়াল ভেঙে আহত হয়েছেন। তাঁকে জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নবান্ন থেকে বিপজ্জনক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দফতর থেকেও দুই ২৪ পরগনা সহ বেশ কিছু জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। আমফানের প্রভাবে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে হাওড়া ফেরিঘাট সহ কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা।

RELATED Articles

Leave a Comment