নবদ্বীপ শহরের বুকে ছড়িয়ে পড়েছে এক রোমহর্ষক ঘটনা। প্রাচীন চৈতন্যভূমির শ্মশানে রাতের আঁধারে অদ্ভুত তৎপরতা দেখা গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। হাড়গোড় বেরিয়ে আসা, গর্ত খুঁড়ে মৃতদেহ সরানোর অভিযোগ সামনে আসতেই গোটা শহরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভাইরাল হয়েছে এক যুবকের মোবাইল ভিডিয়ো, যা ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে উঠছে হাজারও প্রশ্ন। তবে কি সত্যিই রাতের শ্মশানে চলছে কোনও গোপন অপারেশন?
সম্প্রতি কোতোয়ালি থানার আমঘাটা এলাকা থেকে এক বৈষ্ণব ভক্তের দেহ সমাধিস্থ করতে নবদ্বীপ মহাশ্মশানে গিয়েছিলেন শ্মশানযাত্রীরা। সেখানেই নজরে আসে রহস্যজনক দৃশ্য— সমাধিস্থ স্থলের কাছাকাছি মাটিতে দুটি বড় গর্ত। সন্দেহের বশেই বিষয়টি জানানো হয় শ্মশান কর্মীদের। রাতেই খবর যায় নবদ্বীপ থানায়। পুলিস পৌঁছে যা দেখে তা গা শিউরে ওঠার মতো— মৃতদেহের অংশবিশেষ মাটি থেকে উধাও! ঠিক সেই মুহূর্তের ছবি এক যুবক লাইভ করেন মোবাইলে। সেই ভিডিয়ো রাতারাতি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। নদিয়া জেলা বিজেপি-র সদস্য আনন্দ দাসের অভিযোগ, ‘দীর্ঘদিন ধরেই শ্মশানে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। বৈষ্ণব দীক্ষিত ভক্তদের দেহ, এমনকি শিশুর মৃতদেহও রাতের অন্ধকারে তুলে পাচার করা হচ্ছে। পুরসভার মদতেই এই অপকর্ম চলছে। এ শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, আমাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে বড় আঘাত।’ তিনি আরও জানান, থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করবেন।
অবশ্য পুরসভা এই অভিযোগ একেবারেই মানতে নারাজ। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমান কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘বিজেপির এখন কোনও ইস্যু নেই। তাই মনগড়া অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। শ্মশান ঘিরে পাঁচিল নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছে এবং কাজও শুরু হয়েছে। এই কাজ চলাকালীন কিছু পুরনো হাড়গোড় উঠে আসতেই পারে। সেটি নিয়ে অহেতুক রাজনীতি করা অনুচিত।’
আরও পড়ুনঃ woman assault news : চাকরির টোপ, তারপর সফট প*র্নের প্রস্তাব! তরুণীকে আটকে রেখে অত্যা*চার, পলাতক আরিয়ান খান ও তার মা!
পুলিশ সূত্রে খবর, গোটা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাইরাল ভিডিয়ো-সহ যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে নবদ্বীপের জনমত এই ঘটনায় বিভক্ত— কেউ বলছেন ধর্মীয় আবেগে বড় আঘাত, কেউ আবার বলছেন ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই না করেই রাজনীতি করা একেবারেই অনুচিত। তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে এখন গোটা শহর।





