একটা চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন থাকে ছেলে মেয়ে সবারই। সেই স্বপ্নই কাল হয়ে দাঁড়াল পানিহাটির এক তরুণীর জীবনে। কাজের টোপ দিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ফেলা হল এক অন্ধকার জগতে, যেখানে সফট পর্ন, মধুচক্র আর নির্যাতনের ছায়া। শেষপর্যন্ত কোনও মতে পালিয়ে এসে ফাঁস করলেন এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। আর এই গোটা চক্রের পেছনে জড়িত এক কুখ্যাত মা-ছেলে জুটি, যাঁদের নামে ইতিমধ্যেই রয়েছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত, উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের বছর ২৩-এর এক তরুণীর কাজের খোঁজ করতে গিয়ে। সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয় আরিয়ান খানের। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় চাকরির টোপ দেন ওই যুবক। তরুণীও প্রথমে কিছু সন্দেহ করেননি। ঠিকানা অনুযায়ী পৌঁছে যান হাওড়ার ডোমজুড়ে। কিন্তু সেখানেই ঘটে ছন্দপতন। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তাঁকে এক পানশালায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এর পরেই তাঁকে দেওয়া হয় সফট পর্ন ও মধুচক্রে জড়ানোর প্রস্তাব।
এই ধরনের কাজ করতে অস্বীকার করেন ওই তরুণী। সেখান থেকেই তাঁর দুঃস্বপ্নের যাত্রা শুরু। অভিযোগ, তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হয়। বাড়ির সমস্ত কাজ করানো হতে থাকে। শুধু তাই নয়, শুরু হয় শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার। অভিযোগ, জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়, চুল কেটে নেওয়া হয়, অপমান করা হয় বারংবার। কোনও উপায় না দেখে অবশেষে কোনও মতে পালিয়ে আসেন তিনি। এরপর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।
এখানেই উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর নাম—‘ফুলটুসি’। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আরিয়ানের মা শ্বেতা খান ওরফে ‘ফুলটুসি’ এলাকার কুখ্যাত মুখ। তাঁর একটি প্রোডাকশন হাউসও রয়েছে। সেখানে রিলস বানানোর নাম করে তরুণীদের এনে সফট পর্ন শুট করানো হত বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে মধুচক্র চালানোরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বাড়িতে অস্ত্র মজুত রাখারও অভিযোগ উঠেছে মা-ছেলের বিরুদ্ধে। যদিও এতদিন পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।
আরও পড়ুনঃ Kakdwip : বাংলাদেশি নাগরিকের নাম কাকদ্বীপের ভোটার লিস্টে! তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ছবিও ভাইরাল, ছড়াল চাঞ্চল্য!
এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক আরিয়ান ও শ্বেতা খান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই মা-ছেলে একাধিক দুষ্কর্মের সঙ্গে যুক্ত, এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। তবুও এতদিন তাঁরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। এবার পানিহাটির তরুণীর সাহসী পদক্ষেপে তাঁদের কীর্তি সামনে এসেছে। পুলিশি তদন্তে এই চক্রের আরও গভীর রহস্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।





