বিধানসভা ভোটের আগে বাংলা জুড়ে রাজনীতি চড়ছে উত্তাপে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ ইতিমধ্যেই বাংলার মাটি ছুঁয়ে গিয়েছেন। বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের পালা চলছেই। এই পরিস্থিতিতে এবার উত্তর ২৪ পরগনার উত্তপ্ত এলাকা সন্দেশখালিতে জনসভা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ধর্ম, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার নিয়ে তাঁর একের পর এক তীব্র মন্তব্যে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল।
হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক
সভা মঞ্চ থেকে বারংবার হিন্দু সমাজের ঐক্যের বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘সন্দেশখালি ৭০০০ ভোটে বিজেপিকে লিড দিয়েছে। এখন জোট বাঁধুন, তৈরি হন। ভাগ হবেন না।’’ তিনি আরও বলেন, হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ না হলে বাঁচতে পারবেন না। বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে প্রতিদিন হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে। এখানেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।’’
সুকান্ত মণ্ডল হত্যা মামলার প্রসঙ্গ
সভায় শুভেন্দু স্পষ্ট অভিযোগ করেন, জামাই ষষ্ঠীর দিন শাহজাহানের বাহিনী সন্দেশখালিতে নৃশংস ভাবে সুকান্ত মণ্ডলকে খুন করে। তিনি বলেন, ‘‘গত বছর আমি এই মামলা নিই। দেখি মমতার পুলিশ অভিযুক্তদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেয়, অপহরণের মামলাও থেকে মুক্তি দেয়। আমি কলকাতা হাইকোর্টে মামলা রিওপেন করাই। সোমবার ফের বিচার শুরু হবে।’’ শুভেন্দুর দাবি, তিনি হিন্দুদের পাশে আছেন এবং ন্যায়ের লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ধর্মীয় অত্যাচারের অভিযোগ
সভায় আরও অভিযোগ তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, ‘‘হরগোবিন্দ দাস, গোবিন্দ দাসদের গলায় তুলসি ছিল, তাই পশুর কাটার ছুরি দিয়ে নৃশংস ভাবে মারা হয়েছে।’’ বিতান অধিকারীর স্ত্রীর বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, ‘‘বিতান কলমা জানতেন না, তাই তাঁকে মেরে দেওয়া হয়েছে।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘১৮০টি সম্প্রদায়কে ওবিসি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার, যার মধ্যে ১১৯টি মুসলিম সম্প্রদায়। এরকম ওবিসি বিভাজন ভারতের কোথাও নেই।’’
আরও পড়ুনঃ Crematorium Mystery: মধ্যরাতে শ্মশান থেকে উধাও মৃতদেহ! ভাইরাল ভিডিয়োয় চাঞ্চল্য শহরে, তদন্তে নেমেছে পুলিস!
মমতার বিরুদ্ধে তোষণের অভিযোগ,শাহজাহানের ‘দাদাগিরি’র অবসান
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। বলেন, ‘‘হিন্দু বলে তৃণমূল অত্যাচার করছে। রাতের অন্ধকারে হিন্দু রক্ত ঝরছে। এদের মাথায় মমতার হাত রয়েছে।’’ প্রদীপ মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘তিনি হিন্দুদের জন্য সভা করতেন, তারপর থেকেই টার্গেট হয়েছেন। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’’ সভার শেষে শুভেন্দুর ঘোষণা, ‘‘সন্দেশখালিতে শাহজাহানের দাদাগিরি অতীত হয়ে গিয়েছে, অতীতই থাকবে। এবার পরিবর্তনের সময়।’’





