বন্ধুর ভাড়া বাড়ির খাটের নীচ থেকে উদ্ধার হল এক পড়ুয়ার দেহ। সুটকেসবন্দি অবস্থায় ছিল ওই যুবকের দেহ। সেলোটেপ দিয়ে মুখ আঁটা ছিল যুবকের। এই ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
মৃত ওই যুবকের নাম সাজিদ হোসেন। বাড়ি মালদার কালিয়াচকে। জানা গিয়েছে, নিউটাউনে তারুলিয়ায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত বছর উনিশের ওই যুবক। ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। সেই বাড়িতেই তিনটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকত গৌতম সিং। সেই গৌতমের ঘর থেকেই উদ্ধার হয়েছে সাজিদের দেহ।
সূত্রের খবর, গত ৪ অক্টোবর থেকে কোনও খবর মিলছিল না সাজিদের। মালদায় তাঁর কালিয়াচকের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। কলকাতায় আসেন সাজিদের বাবা। নিউটাউন থানায় মিসিং ডায়েরি দায়ের করেন তিনি। সেই অনুযায়ীই তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
নানান এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। সেই সময় তারুলিয়া এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাজিদএকটি ম’দের দোকান থেকে বেরোচ্ছে। তাঁর সঙ্গে গৌতম সিংও ছিল। সেখান থেকেই প্রথমে গৌতম সিংকে চিহ্নিত করে পুলিশ। এরপর আটক করা হয় তাকে।
গৌতমকে আটক করে জেরায় পুলিশ জানতে পারে, ওই এলাকাতে গৌতমের একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে। সেই রেস্তোরাঁতে মাঝেসাঝেই যেত সাজিদ। সেই সূত্র ধরেই পরিচয় গৌতমের সঙ্গে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রথমে সাজিদকে ম’দ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে খু’ন করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে মুখে সেলোটেপ আটকে দেওয়া হয়।
এদিকে আবার সাজিদের বাবার মোবাইলে একটি ছবি পাঠানো হয়। সেখানে দেখা যায়, সাজিদের মুখে সেলোটেপ লাগানো। মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ লক্ষ টাকা দাবী করা হলেও কিছুক্ষণ পর ডিলিট করে দেওয়া হয় সেই ছবি। এরপর শুক্রবার সকালে বন্ধুর ভাড়াবাড়ির খাটের নিচে সুটকেসে মিলল সাজিদের দেহ। টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়েই সাজিদকে খু’ন করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গৌতমের পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।





