রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারিকরণ-সহ কেন্দ্র সরকারের নানান নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সোমবার ও মঙ্গলবার বনধ্ ডাকা হয়েছে সিপিএমের তরফে। গতকাল, সোমবার বনধ্ সেভাবে ফলপ্রসূ না হলেও, নানান জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তির খবর সামনে আসে। বামেদের এই বনধ্ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েন নি তৃণমূলের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। এর পাল্টা জবাবও দেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ।
বামেদের বনধ্ নিয়ে গতকাল, সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ শানিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য লেখেন, “আমার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ সিপিএমও রাস্তায় শুয়ে পড়েছে”।

দেবাংশুর এই কটাক্ষের জবাবে এক সংবাদমাধ্যমে শতরূপ ঘোষ বলেন, “দেবাংশুর থেকে আমরা অনুপ্রাণিত হতাম যদি দিদির দরজার বাইরে শুয়ে উনি চৌকাঠ হতে পারতেন। কিন্তু উনি তো চৌকাঠ হতে পারলেনই না, বরং পাপোশ হয়ে গিয়েছেন। দিদির ঘরে ঢুকতে গিয়ে কেউ এখন আর হোঁচোট খাচ্ছে না, পা মুছে ঢুকে যাচ্ছে। জয়প্রকাশ মজুমদার, মুকুল রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত। উনি বেচারা চৌকাঠ হতে গিয়ে পাপোশ হয়ে গিয়েছেন। আমরা চৌকাঠের থেকে অনুপ্রেরণা নিই, পাপোশ থেকে কী নেব”।
শতরূপের এই কথায় কিন্তু সিপিএমকে কটাক্ষও শানিয়েছেন দেবাংশু। ওই সংবাদমাধ্যমেই তিনি বলেন, “আমি দিদির কালীঘাটের বাড়ির সামনে শুয়ে থাকব বলেছিলাম, সেটা নিয়ে সিপিএম-এর প্রচুর মাথাব্যথা। ওরা বলে তুমি শুয়ে রয়েছ তাও সবাই ডিঙিয়ে চলে যাচ্ছে। ওটাই আমি বলেছি যে, আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সিপিএম এখন রাস্তাঘাটে শুয়ে পড়ছে। তফাত একটাই আমাকে ডিঙিয়ে অনেকেই হয়তো ঢুকে গিয়েছেন। কিন্তু সিপিএম যেগুলোকে আটকানোর চেষ্টা করছে, সেই বাস বা ট্রেন যদি ওদের ডিঙিয়ে ঢোকার চেষ্টা করত, তাহলে তো ব্যাপারটা অন্যরকম হত। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, মুকুল রায়রা যেমন আমাকে ডিঙিয়ে ঢুকে গিয়েছে, যেগুলোকে সিপিএম আটকানোর চেষ্টা করছে, সেই বাস বা ট্রেন যেন আজ ওনাদের ডিঙিয়ে না চলে যায়। কারণ এটা হলে একটা দুর্ঘটনা হবে। চৌকাঠ আর পাপোশের মধ্যে এখানেই তফাত। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, এটা আমার দলের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার সেখানে সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু ওনারা যে শুয়ে পড়েছেন তাতে সাধারণ নিত্যাযাত্রী, খেটে-খাওয়া মানুষ, করোনার কারণে যাঁদের পেটে লাথি পড়েছে, এই ধর্মঘট করে তাঁদের পেটে আবার লাথি মারার চেষ্টা হচ্ছে। তাই মেহনতি মানুষের কথা বলে তাঁদের পেটে লাথি মারার চেষ্টা করলে এখানে সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়ে যায়। একটা দলীয় অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, আর একটা সাধারণ মানুষের”।
শুধু তাই-ই নয়, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফের সঙ্গে বামেদের জোট ও বিধানসভায় বামেদের আসন শূন্য থাকা নিয়েও তোপ দাগতে ছাড়েন নি দেবাংশু। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “ওরা তো আমার দ্বারা অনুপ্রাণিত হল, কিন্তু নিজেদের দলে শুয়ে থেকে আব্বাসের সঙ্গে জোটটা আটকাতে পারল না। শুয়ে পড়ল সাধারণ মানুষকে আটকানোর জন্য। আর ভোটটা তো সাধারণ মানুষই দেয়। শূন্যের নীচে তো আর সংখ্যা হয় না। সিপিএম-এর জন্য নতুন করে আর কী বা বলব”।





