কালীপুজোর আগেই জবা ফুলের জন্য হাপিত্যেশ, বাজার ভরে উঠেছে প্লাস্টিক জবায়, টাটকা ফুল পাবেন না মা?

রাত গড়ালেই কালীপুজো। গোটা রাজ্য মেতে উঠবে মা কালীর আরাধনায়। মা কালীর গলায় টকটকে লালজবার মালা শোভা পাবে। কিন্তু এই জবাফুল নিয়েই বেঁধেছে গোল। দুর্গা পুজোর সময় মহাষ্টমীতে যেমন পদ্মের জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছিল, তেমনই এবার জবাফুলের জন্যও হাপিত্যেশ করছেন ভক্তরা।

কালীপুজোর আগে ১০০০ পিস জবাফুলের দাম চড়েছে ৫০০ টাকাই। এক একটি জবা ফুলের দাম ৫০ পয়সা। তাও ঠিকঠাক মিলছে না জবা। সেই কারণে এবার বাজারে রমরমিয়ে বেড়েছে প্লাস্টিক জবার চাহিদা। জবার মালা কিনতে ফুল বিক্রেতা নয়, বরং দশকর্মা ভাণ্ডারে যাচ্ছেন ভক্তরা।

ভেবে দেখেছেন কী কেন লাল জবাতেই পুজো পান মা কালী?

লাল শক্তির প্রতীক। কথিত রয়েছে, জবাফুলের কোনও গন্ধ না থাকায় ও এর স্থায়িত্ব বেশিদিন না হওয়ায় না নিয়ে কান্নাকাটি করে মা কালীর কাছে যায় জবাফুল। বলে, কোনও পুজোয় তাকে লাগে না, কোনও সম্মান নেই তার। তখন মা কালী বলেন, যার কেউ নেই, তার মা আছে। সেই থেকেই জবা ফুলেই পুজিত হন মা কালী। জবাফুল ছাড়া মায়ের পুজো হয় না।

তাছাড়া, মায়ের জিভের রঙ লালা। সেই লাল জিভের প্রতীক জবা। আবার লাল রঙ ঋতুচক্রের প্রতীক। সেই কারণে লাল রঙের মাধ্যমে সৃজনকে নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে। লাল রঙ আবার ভালোবাসারও প্রতীক। সেই কারণেই মা কালীকে ভালোবেসে তাঁর চরণে নিবেদন করা হয় টকটকে লাল জবা।

কিন্তু এখন এই টকটকে লাল জবা পাওাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বাংলায় ব্যাপকহারে জবা ফুলের চাষ হয় পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর ২, হাওড়ার বাগনান ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা শিরাকোলে। আরও নানান জায়গাতেই চাষ হয়। সেই জবা কলকাতার মল্লিকঘাট ফুল বাজার-সহ নানান ফুলের বাজারে চলে যায়।

জবার চাহিদা কী এতে মিটবে?

এই নিয়ে সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক বলেন, “কালীপুজোর রাতে রাজ্যজুড়ে প্রায় আড়াই কোটি জবার প্রয়োজন হয়। বিপুল চাহিদা মেটাতে বেশ কিছুদিন ধরে বিশেষ করে লক্ষ্মীপুজোর পর থেকেই ব্যবসায়ীরা ফুল চাষিদের কাছ থেকে তা কিনে হিমঘরে মজুত করে রাখেন। পুজোর দিন দুয়েক আগে থেকে তা বের করে বিক্রি শুরু হয়। তাতেও চাহিদা মেটে না। সেই কারণেই লাল টকটকে কৃত্রিম প্লাস্টিকের জবার মালা বাজারে এসেছে”।

এমন আবহে বাজারে প্লাস্টিকের জবার চাহিদা তুঙ্গে। এক দশকর্মা ভাণ্ডারের মালিকের কথায়, “প্রাকৃতিক টাটকা জবা কালীপুজোয় পাওয়া বড়ই চাপের। ভীষণ দাম। তাই বিকল্প হিসাবে এই লাল টকটকে প্লাস্টিকের জবার মালার চাহিদা বেড়েছে। যা শুক্রবার ধনতেরাসের দিন থেকেই কেনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এই জবার মালাগুলো আমরা কলকাতা ও আসানসোল থেকে এনে বিক্রি করি”।

RELATED Articles