Digha Jagannath Temple : আজ রাজ্যজুড়ে মিলবে মহাপ্রভুর খোয়া ক্ষীরের প্রসাদ, দিঘা থেকে শুরু মহোৎসবের যাত্রা!

দিঘার সমুদ্রতট শুধু পর্যটকদের নয়, এবার রাজ্যবাসীর কাছেও এক নতুন ধর্মীয় আবেগের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। আসন্ন জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা এবং রথযাত্রা উপলক্ষে দিঘার জগন্নাথ মন্দির এখন সাজো সাজো রব। আর সেই আবহেই আজকের দিনে রাজ্যজুড়ে মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে এখানকার মহাপ্রসাদ—বিশেষভাবে প্রস্তুত খোয়া ক্ষীরের সন্দেশ।

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে নিত্যদিন পুরীর আদলে ভোগ নিবেদন করা হয়। পুরীর মতন এখানেও মা বিমলাকে প্রথমে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই ভোগ পরে জগন্নাথ দেবকে নিবেদন করে মহাপ্রসাদ রূপে পরিণত হয়। আজকের দিনে সেই মহাপ্রসাদের অন্যতম আকর্ষণ খোয়া ক্ষীর। কলকাতার নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে সেই খোয়া ক্ষীর ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে দিঘার মন্দিরে। সকাল সাড়ে ১১টায় তা ভোগ রূপে নিবেদন করা হয়েছে। এরপরই তা বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে পাঠানো হবে।

দিঘার এই মহাপ্রসাদ বিতরণে রয়েছে আরও এক বিশেষ চমক। কালীঘাটের মায়ের মন্দির এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের মধ্যে রয়েছে আত্মিক সংযোগ। কালীঘাট মন্দিরে মা-কে যে পেঁড়া নিবেদন করা হয়, সেই একই ধরনের পেঁড়া আজ জগন্নাথ দেবের ভোগেও অন্তর্ভুক্ত। মন্দিরের নিত্যপূজার দায়িত্বে থাকা ইসকনের সহ-সভাপতি রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, “কালীঘাটের মা-ই জগন্নাথ মন্দিরের মা বিমলা। সেই ভোগ মহাপ্রসাদ হয়ে মহাপ্রভুকে নিবেদন করা হয়।”

সম্প্রতি মহাপ্রসাদ নিয়ে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে রাধারমণ দাস উদাহরণ টেনে বলেন, ইসকনের রথযাত্রার সময় ময়দানে এক লক্ষ মানুষের জন্য খিচুড়ি ভোগ তৈরি হয়। সেই খিচুড়ির সামান্য অংশ প্রথমে জগন্নাথ দেবকে নিবেদন করা হয়। দেবতা গ্রহণ করার পর সেটাই মহাপ্রসাদ হয়ে মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। পুরীর আদর্শ মেনেই এই রীতি চলে।

আরও পড়ুনঃ Bangladeshi in Indian voter list: বাংলাদেশিকে ছাড়াতে তৃণমূল নেতা অন্যদিকে ভারতীয় ভোটার তালিকায় বাংলাদেশি! তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ!

আগামী ১১ জুন জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা। এর পরে দেবতার জ্বরের কাল চলবে ১২ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত। এই সময়ে মন্দির দর্শন বন্ধ থাকবে। ২৬ জুন ফের মন্দিরের দ্বার খুলবে। বিপুল ভিড় সামাল দিতে প্রশাসন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে। ৫ জুলাই উল্টো রথ এবং ৮ জুলাই দেবতাদের মন্দিরে প্রত্যাবর্তনের দিনও থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা। পুরীর রীতি মেনেই ৬ ও ৭ জুলাই দেবতারা মন্দিরের বাইরে থেকেই দর্শন দেবেন। আজকের খোয়া ক্ষীরের মহাপ্রসাদ বিতরণ এই বিশেষ আবহেরই এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে দেবে ধর্মীয় আবেগ এবং ভক্তিমূলক পরিবেশ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর