‘আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করে নন্দীগ্রামে কিছু করতে পারল’, ভবানীপুরে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ দিলীপের

একটিমাত্র কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র রে যে এত বেশি জলঘোলা হতে পারে, তা ভবানীপুর না হলে জানাই যেত না। এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন নিয়ে একদিকে যেমন আইনি মামলা হয়েছে তেমনই অন্যদিকে চলেছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। কেউ কাউকে একচুল জমি ছাড়তে নারাজ।

নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর পর ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি অন্য কোন প্রভাবশালী প্রার্থীকে দাঁড় করাবে, এই নিয়ে চলছে জল্পনা। বিজেপি প্রার্থী ঘোষণায় এমন দেরি হওয়ায় কটাক্ষও করেছে তৃণমূল। এর জবাবে এবার বিজেপি পাল্টা মন্তব্য, যারা নন্দীগ্রামে আগেভাগে প্রার্থী দিল, তারা কিছু করতে পারল? এই নিত্যে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শাসকদলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন।

আরও পড়ুন- ভবানীপুরে উপনির্বাচন নিয়ে আইনি পথেই হাঁটল বিজেপি, কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

আজ, বৃহস্পতিবার ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আগে ভাগে প্রার্থী দিলেই কি ভোটে জেতা যায়? ওনারা তো দিয়েছিলেন নন্দীগ্রামে। কী হল? আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছিলেন। দু’ মাস আগে থেকে প্রার্থী দিয়েছিলেন। অথচ ফলাফল তো দেখে নিয়েছে সকলেই। লড়াই করেন, দৌড়াদৌড়ি করেন। লোকসভাতেও আগে প্রার্থী দিয়েছিলেন। তারপর ঝটকাটা খেলেন। নির্বাচনটা তো মাঠে হয়। সেটা ভুলে গেলে চলবে কী করে”। এরইসঙ্গে বিজেপির প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যে কোনও সময়ই প্রার্থী ঘোষণা হয়ে যেতে পারে”।

এদিন দিলীপ ঘোষ ফের একবার শুধুমাত্র ভবানীপুরে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা নিয়েও সরব হন। ভবানীপুর নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা হয়েছে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাভাবিক ভাবেই ভবানীপুর উপনির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন। আদালতই যা বিচার করার করবে। সমস্ত দিক গুলো আলোচনা হবে। অন্যান্য রাজ্যেও তো উপনির্বাচন। তারা এখন বলছে উপনির্বাচন করার পরিস্থিতি নেই। পশ্চিমবঙ্গে চারটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে না। কলকাতা সব সময় স্পর্শকাতর”।

কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দিলীপবাবুর উক্তি, “যারা বিধানসভা নির্বাচনে চেঁচিয়ে বলেছিল, করোনার মধ্যে ভোট হলে মানুষের জীবনের ঝুঁকি হচ্ছে, তারা এখন সে সব ভুলে মুখ্যমন্ত্রীকে ধরে রাখার জন্য অন্য কথা বলছে। যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে যান, তা হলে কী সংকট তৈরি হবে না? তাই স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ জানতে চাইছেন নির্বাচন কমিশন কেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেন। কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাউকে বিধায়ক বা মুখ্যমন্ত্রী করা তো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব না”।

আরও পড়ুন- প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সৌজন্যের রাজনীতি! ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের ফর্ম ফিল-আপ করলেন বিজেপি নেতা-নেত্রীরা

গতকাল, বুধবার উপনির্বাচন নিয়েই জনস্বার্থ মামলা করা হল কলকাতা হাইকোর্টে। নির্বাচন নিয়ে কমিশনকে লেখা মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর চিঠিকে হাতিয়ার করেই এই মামলা করা হয়েছে। এই মামলাটি করেছেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যসচিবের চিঠির বয়ান নিয়ে তোলা হয়েছে প্রশ্ন। মামলাকারীর দাবী, রাজ্যে একাধিক কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন। কিন্তু শুধুমাত্র ভবানীপুর কেন্দ্রের জন্যই কেন চিঠি দিলেন মুখ্যসচিব? মুখ্যসচিব কী ঠিক করতে পারেন যে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন? এমন প্রশ্ন তুলেই এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাকারীর প্রশ্ন, মুখ্যসচিব কী শুধুমাত্র একটি আসনেই ভোট চেয়ে চিঠি দিতে পারেন?

RELATED Articles