‘সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিচ্ছে’, হাওড়ার হিংসার ঘটনা নিয়ে সরব দিলীপ ঘোষ

হাওড়ায় যে হিংসার (Howrah riots) ঘটনা ঘটেছে তাতে গোটা বাংলা এখন উত্তপ্ত। এহেন পরিস্থিতিতে আজ, রবিবার চা চক্রে যোগ দিয়ে রাজ্যের নানান বিষয়ে মন্তব্য করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। হাওড়ার পর মুর্শিদাবাদেও ইন্টারনেট পরিষেবা (internet service) বন্ধ রেখেছে সরকার। সেই নিয়েই মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ।

এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই রাজ্যের সরকার পরিস্থিতি কন্ট্রোল করতে পারছে না। উলটে উস্কে দিচ্ছে। তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে এটাকে ব্যবহার করছে । যখন কাশ্মীরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন এখান থেকে অনেক নেতা নেত্রী চেঁচামেচি করছিলেন যে কেন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে এখন আপনারা কেন করছেন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না? আর সেই কারণেই কি ইন্টারনেট বন্ধ করতে হচ্ছে”।

প্রসঙ্গত, বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মা মহানবী হজরত মহম্মদকে নিয়ে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন, তার জেরে হাওড়ার নানান জায়গায় বিক্ষোভ দেখান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা। গত বৃহস্পতিবার উলুবেড়িয়ায় ৬ নম্বর জাতীয় সড়কপথ অবরোধ করা হয়। প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ওঠে অবরোধ। গত শুক্রবারও সলপে ও ধূলাগড়ে হয় অশান্তি। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় ইট।  

শুধু তাই-ই নয়, বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে অশান্তির ছড়ায় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙাতেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অশান্তির প্রতিবাদ করেছিলেন এক তরুণী। সেই নিয়ে বেলডাঙা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় এক বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজন। ঘেরাও করা হয় পুলিশকে। শেষমেশ গ্রেফতার করা হয় ওই তরুণীকে। এই নিয়েও বিক্ষোভের আঁচ ওঠে।

শনিবারের অশান্তির পর আজ, রবিবারও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও বেলডাঙা এলাকা থমথমে। দুটি এলাকাতেই মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী। এর পাশাপাশি পুলিশি টহল তো চলছেই। এরই মধ্যে গতকাল সরকারের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয় যে বেলডাঙা ১ ও ২ নম্বর ব্লক এবং রেজিনগর ও শক্তিপুর থানা এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

RELATED Articles

Leave a Comment