“দিদির বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু!” বাংলায় রেকর্ড জয়ের ইঙ্গিত অমিত শাহর!

লোকসভা নির্বাচনের উত্তাপে কার্যত তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। প্রথম দফাতেই রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে উত্তেজনা, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক লড়াই, সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে চরম চাপের আবহ। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে এসেছে, আর নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়েছে চারশোরও বেশি অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক ময়দানে বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

ভোটের আগের দিন হুগলির সপ্তগ্রামের বালিকুখারির জনসভা থেকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে নিজের বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। শুরু থেকেই তাঁর গলায় ছিল আত্মবিশ্বাসের সুর “বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন, আর এবার দিদির সরকার যাওয়ার পালা নিশ্চিত।” যদিও প্রথম দফায় বিজেপি কত আসন পাবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি, কিন্তু স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন রেকর্ড ভাঙা ফলাফলের দিকে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা, তাহলে কি বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় ইতিমধ্যেই এগিয়ে থাকার ছবি ধরা পড়েছে?

শুধু সেখানেই থামেননি শাহ। সভা থেকে বারবার তুলে আনেন অনুপ্রবেশের ইস্যু। সরাসরি আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে, অভিযোগ করেন “বাংলায় অনুপ্রবেশকারীরাই এখন তৃণমূলের প্রধান ভোটব্যাঙ্ক।” আরও কড়া সুরে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্তে এমন কড়া নিরাপত্তা গড়ে তোলা হবে, যাতে “একটি পাখিও গলতে পারবে না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট, নিরাপত্তা ও সীমান্ত প্রশ্নকে সামনে রেখেই ভোটের লড়াইকে আরও তীব্র করতে চাইছে বিজেপি।

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ঝুঁকি নিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। তাই হুগলি ও সংলগ্ন এলাকায় প্রচারে জোর দিয়ে শাহ বুঝিয়ে দেন, উন্নয়ন নয় এই মুহূর্তে আবেগ, নিরাপত্তা ও পরিচয়ের রাজনীতিই তাঁদের মূল হাতিয়ার। দুর্নীতি, তুষ্টিকরণ ও অনুপ্রবেশ এই তিন ইস্যুকে সামনে রেখেই ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শাহের এই ধরনের বক্তব্য শুধুই রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস নয়, বরং এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল, যার লক্ষ্য কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং ভোটারদের মনে জয়ের হাওয়া তৈরি করা।

আরও পড়ুনঃ রহস্য ঘেরা অভিনেত্রীর মৃ’ত্যু! মাত্র ৩০ বছরেই থেমে গেল এক জীবনের পথচলা! কীভাবে এই পরিণতি?

অন্যদিকে তৃণমূল যেখানে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছে, সেখানে বিজেপি স্পষ্টভাবে মেরুকরণমূলক ইস্যুতে জোর দিচ্ছে। পুরশুড়ার সভা থেকে শাহ দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটে তৃণমূলের ‘গুন্ডাদের’ সাহস হয়নি ভোটারদের ভয় দেখানোর। একইসঙ্গে কড়া বার্তা দেন অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে “৫ মে বিজেপি সরকার গঠনের পর বেছে বেছে তাড়ানো হবে, ৬ তারিখ থেকে পালানো শুরু হবে।” মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি সিন্ডিকেট রাজ নিয়েও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৫ তারিখের পর সব হিসেবনিকেশ করা হবে।” এখন প্রশ্ন একটাই অমিত শাহর এই আত্মবিশ্বাসী দাবি কতটা বাস্তবের সঙ্গে মেলবে, আর কতটা নির্বাচনী কৌশল তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles