অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandal) কালীপুজোয় মা কালীর (Maa Kali) গয়নার সাজ নিয়ে এবার সরব হলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি বলেন যে দুর্নীতির টাকায় জাঁকজমক করার দিন এবার অচিরেই শেষ হবে। এই ধরণের অন্যায় এবার বন্ধ হওয়া উচিত বলেই মনে করেন বিজেপি সাংসদ (BJP MP)। গত বছর কালী মা-কে ৫০০ ভরির উপর গ্যনায় সাজিয়েছিলেন অনুব্রত। তবে এবার সেই জৌলুসে ভাটা পড়েছে।
আজ, মঙ্গলবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখানে কেষ্টর কালীপুজো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই ধরনের পুজোর রমরমা। পশ্চিমবাংলায় যেদিন থেকে দুর্নীতি বেড়েছে, এই সারদার টাকা থেকে আরম্ভ করে কয়লা, গরু সব পাচারের টাকায় ধুমধাম চলে। সারদার মালিক জেলে গিয়েছেন, কিছু পুজোর রোশনাই কমে গেল। যে পার্থবাবু এত ধুমধাম করে দুর্গাপুজো করতেন কোথায় কী! কেষ্টবাবুর কালীপুজো এত ধুমধাম করে হতো, ভরি ভরি গয়না চাপিয়ে, সেটাও হয়নি। এই ধরনের অপকর্ম করে পুজো করা, লোককে খুশি করা, ভগবানের আরাধনা করা ঘোর অন্যায়। এগুলো বন্ধ হওয়ার দরকার আছে। আমার মনে হয় এগুলো বন্ধ হওয়ার সময় এসে গেছে”।
প্রসঙ্গত, বোলপুরের তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে প্রতি বছর কালীপুজো করেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এখন সেই কালীপুজো ‘কেষ্ট কালী’ নামেই পরিচিত। এক সময় তিনি মা-কে ২০০ ভরির গয়না পরাতেন। গত বছর সেই গয়নার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭০ ভরিতে। নিজের হাতে মা-কে সাজাতেন কেষ্ট। তবে এই বছর গরু পাচার মামলায় তিনি জেলে। ফলে জৌলুস কমেছে সেই পুজোর।
গতকাল, সোমবার বীরভূম জেলা তৃণমূল সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “যে পুজোটা আমরা এখানে পার্টি অফিস করার পর থেকে শুরু হয়েছে, সেটা কেষ্ট কালী হিসাবে পরিচিত হয়েছে। কারণ তিনি দায়িত্ব নিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে পুরো বিষয়টাই সামলাতেন। রাজগ্রাম থেকে শুরু থেকে মুরারই, খয়রাশোল, নানুর, লাভপুর এমনকী বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গা থেকেও মানুষ আসতেন এই পুজো দেখতে। তাঁর অনুপস্থিতিতে আনন্দ তো নেই, প্রাণটাও নেই। মায়ের পুজো, সময় তো থেমে থাকবে না”।
তিনি আরও বলেন, “যতটুকু নিষ্ঠাভরে করা যায় ততটাই করছি। সারা বীরভূম জেলা থেকে প্রায় ১৫০ জন জেলা কমিটির সদস্য আছে তাদের থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা তুলে দেড় লক্ষ টাকার একটা এস্টিমেট করে পুজো হচ্ছে। অলঙ্কার, সাজানো সবই তো আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। এবার আমাদের মন ভাল নেই। তাই যেটুকু না করলেই নয়, সেটুকুই করা হচ্ছে”।





