অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, লকেটের মন্তব্যের পাল্টা আক্রমন শানালেন দিলীপ ঘোষ

হুগলীর বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সংঘাত বেঁধে গেল বলেই ধরা যায়। বিধানসভা থেকে শুরু করে উপনির্বাচন, পুরভোট, সবেতেই বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। এর নেপথ্যে কারণ হিসেবে একদিকে যেমন উঠে আসছে রাজ্য নেতৃত্বের অপারগতা, তেমনই আবার দলের অন্দরের ফাটলও এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে লকেট চট্টোপাধ্যায় একটি ছোট্ট টুইট করে আলোড়ন ফেলে দেন। এতে থেমে না থেকে বিজেপির পরাজয়ের কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করেন রাজ্য নেতৃত্বকেই। গতকাল, শনিবার দলের চিন্তন বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকলেও, তাঁকে মঞ্চে ডাকা হয়নি। আর এবার সরাসরিই তাঁকে আক্রমণ শানালেন বিজেপি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে লকেটের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, “কেউ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তার ভুল-ত্রুটি ধরে, তাহলে তাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেউ যদি নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়ে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপায়, সেটা তো আত্মবিশ্লেষণ নয়, সেটা তো পরচর্চা হয়ে গেল। যারা ময়দানে নেই তারা যদি এই ধরনের অভিযোগ করে, তার কোন গুরুত্ব নেই”।

লকেট ঠিক কী বলেছিলেন?

পুরভোটে বিজেপির ব্যর্থতা নিয়ে হুগলির সাংসদের সাফ কথা ছিল যে দলের এবার ভুল স্বীকার করে নিতে হবে। তিনি বলেন, “দায় চাপিয়ে পার পাওয়া যাবে না। সন্ত্রাস করে হোক বা যাইহোক, রায় যা হয়েছে, তা মাথা পেতে নিতে হবে। ভুল স্বীকার করে মানুষের কাছে যেতে হবে”। লকেটের এমন মন্তব্যের পরই দিলীপ ঘোষ পাল্টা আক্রমণ শানালেন।

সম্প্রতি, রাজ্যের ১০৮টি পুরসভায় ফলপ্রকাশ হয়েছে। এতে একটিও পুরসভা দখল করতে পারে নি বিজেপি। উপরন্তু ভোট পাওয়ার শতাংশের নিরিখে তারা বামেদেরও পিছনে রয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তবে তাতে তো আর ব্যর্থতা ঢাকা দেওয়া যায় না।

লকেটও এই কথাই বলেছেন। এমন আবহে পুরভোটের ফলপ্রকাশের পর বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় টুইট করে ‘আত্মসমীক্ষা’ শব্দটি লেখেন। আর এরপরই তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন রাজ্য নেতৃত্বকে।

এরপর এবার দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, “সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই নিজের মতো করে বক্তব্য রাখছেন, যারা কোনদিন বাড়ির বাইরে বেরোইনি, তারা বড় বড় মন্তব্য করছে। কী কারণে পুরভোটে পরাজয়, তার জন্যই তো চিন্তন বৈঠকে বসা হয়েছে। সাংগঠনিক দুর্বলতাই একমাত্র কারণম তা নয়। সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকলে বৈঠকে আসছেন কী করে নেতৃত্ব? সন্ত্রাস, হিংসা, লুটও বিজেপির পরাজয়ের কারণ”।

RELATED Articles