বিধানসভায় শুভেন্দুর ঘরে দিলীপ, হল মিষ্টিমুখও, শুভেন্দু-দিলীপের দূরত্বের জল্পনার মাঝেই নতুন কোনও সমীকরণ?

Dilip Ghosh Met Suvendu Adhikari at Assembly: আজ রাজ্যের বিরোধী দলনেতার জন্মদিন। এদিন তাঁর ডাকে সাড়া না দিলে হয়! বিধানসভাতেই পালন হল তাঁর জন্মদিন। আর জানা যাচ্ছে, জন্মদিনের দিন শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণেই তাঁর ঘরে গেলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh Met Suvendu Adhikari at Assembly)। মিষ্টিমুখও হল দু’জনের মধ্যে। তাহলে কী ঠাণ্ডা লড়াইয়ের এবার ইতি?

বেশ কিছুদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষের মধ্যেকার দূরত্ব নিয়ে নানান জল্পনা চলছে। কিছুদিন আগেও একবার বিধানসভায় এসেছিলেন দিলীপ। কোনও বিধায়ক বা নেতা ছিলেন না। কারোর সগে দেখা হয়নি তাঁর। জানিয়েছিলেন, তাঁর পেনশন সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলতে এসেছিলেন। আর এবার তিনি এলেন বিরোধী দলনেতার আমন্ত্রণে (Dilip Ghosh Met Suvendu Adhikari at Assembly)। দু’পক্ষের মিষ্টিমুখ করার ছবি দেখে রাজ্য রাজনীতিতে হইচই পড়েছে। দু’জনের দূরত্বের জল্পনার মাঝেই কী নয়া কোনও সমীকরণ তৈরি হল? 

প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি এমন একজন নেতা যার হারের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। দিলীপের হারের প্রধান কারণ হিসেবে যে তত্ত্বটি বারবার উঠে এসেছে, তা হল তাঁর আসন পরিবর্তন। মেদিনীপুরকে দিলীপ ঘোষের গড় বলা যায়। সেই এলাকাকে তিনি নিজের হাতের তালুর মতো চেনেন। সেখান থেকেই পরপর দু’বার সাংসদ হয়েছেন তিনি। কিন্তু চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে সেই আসন থেকে সরিয়ে টিকিট দেওয়া হয় বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের।

আসন বদল হলেও দিলীপের প্রচারে কিন্তু কোনও খামতি দেখা যায়নি। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদের কাছে হেরে যান তিনি। পরাজয়ের পর দলের বিরুদ্ধে কাঠিবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। আসন পরিবর্তনের ফলেই যে তাঁর হার হয়েছে, তাও ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দিলীপ। রাজনইতিকি বিশ্লেষকদের মতে, কোর কমিটির সদস্য শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই আঙুল তুলেছিলেন দিলীপ।

দিলীপের সঙ্গে শুভেন্দুর ঠাণ্ডা লড়াই নিয়ে যখন বিতর্কের অন্ত নেই, সেই সময় এবার সামনে এল এমন বন্ধুত্বপূর্ণ ছবি। শুভেন্দুর আমন্ত্রণে বিধানসভায় তাঁর ঘরে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে মিষ্টিমুখ করলেন দিলীপ (Dilip Ghosh Met Suvendu Adhikari at Assembly)। শুভেন্দুও আবার দিলীপকে পুষ্পস্তবক দিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এই ঘটনা যে রাজনৈতিক দিক দিয়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই ঘটনায় আবার তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “হেরোরা সব এক জায়গায়। ফেসবুকে দুটো পেজ চলছে, আমরা শুভেন্দুদার সৈনিক, আরেকটা আমরা দিলীপদার সৈনিক। একে অপরের বিরুদ্ধে চোখা চোখা কথা বলত, সেই শব্দগুলো কী মিটে যাবে এবার”?

RELATED Articles