নানান দুর্নীতির ঘটনায় এখন বিদ্ধ রাজ্য। শাসক দলে একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে নানান দুর্নীতিতে (scam)। এর মধ্যে অন্যতম হল শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি (recruitment scam)। বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছেন একাধিক। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা পরেশ অধিকারীর (Paresh Adhikari) নাম জড়িয়েছে নিয়োগ দুর্নীতিতে। তাকে ইডির (Enforcement Directorate) তলবের মাঝেই তাকে কটাক্ষ শানিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বললেন, “হয় পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee), না হলে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে থাকাই ওই যোগ্য জায়গা। বাইরে থাকার কোনও অধিকার নেই”।
এসএসসি থেকে শুরু করে টেট, গ্রুপ ডি, নানান ক্ষেত্রে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির ঘটনায় জেলে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মানিক ভট্টাচার্য, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, শান্তিপ্রসাদ সিনহা, অশোক সাহা ও শিক্ষা দফতরের আরও অনেকে।
এরই মাঝে পরেশ অধিকারীকে একহাত নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “পরেশ অধিকারী যখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিল, তখন মেয়েকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দিতে সহায়তা করেছে। অনেকের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এরকম ভাবে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত মানুষকে জেলে রাখা উচিত”।
বিজেপি সাংসদের কথায়, “পরেশ অধিকারী যে দুর্নীতিতে যুক্ত, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। ওর দলের সহকর্মী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অনুব্রত মণ্ডলের মতো ওকেও গ্রেফতার করা উচিত তদন্তকারী অফিসারদের”।
বলে রাখি, পরেশ অধিকারীর বিরুদ্ধে তাঁর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে শিক্ষিকার চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন চাকরিপ্রার্থী ববিতা অধিকারী। এরপরই গোটা বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল হয় অঙ্কিতার ও তাঁর জায়গায় চাকরি পান ববিতা।
মেয়েকে চাকরি পাইয়ের দেওয়ার ঘটনায় পরেশ অধিকারীর হাত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সিবিআই জেরার মুখেও বেশ কয়েকবার পড়তে হয়েছে তাঁকে। এবার তাঁকে তলব করেছে ইডি। এরই মাঝে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে তোপ দেগে দিলীপ ঘোষ বললেন, “দুর্নীতি কাণ্ডে আরো অনেকের নাম প্রকাশ্যে আসবে। প্রক্রিয়া চলছে, অনেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তলবের জন্য ডাক পাবেন”।





