মথুরাপুর থেকে আল কায়দা জঙ্গি সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (Special Task Force)। সেই ঘটনা নিয়ে এবার কটাক্ষ শানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গকে জঙ্গি (terrorist) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বানিয়ে তার ট্রেনিং দিয়ে গোটা ভারতবর্ষে উৎপাত করা হচ্ছে”। এমনকি, পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলকে (TMC) নিজের ঘর সামলানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
খড়গপুরে চা চক্রে যোগ দিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষকে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আলোচনার বিষয় নয়। কাঁথিতে কুণালবাবু এসেছিলেন যোগদান মেলা করতে, দলের লোকেরাই ভেস্তে দিয়েছে মেলা। দু’-চারটে লোককে কিনে নিয়ে দেখাচ্ছে বিজেপি থেকে লোক চলে যাচ্ছে। যাবে না কেউই।”
খেলা-মেলা অন্য জায়গায় করার পরামর্শ দিয়ে দিলীপ বলেন, “আগে নিজের ঘর সামলান”। কিছুদিন আগেই কুণাল ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে বলেছিলেন, “আগে ঘর সামলা, পরে ভাববি বাংলা”। তিনি এও দাবী করেন যে বিজেপিতে কোনও কোন্দল নেই।
এদিন জঙ্গি গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এতদিন অভিযোগ করতাম পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক পাঠাচ্ছে। এখন পশ্চিমবঙ্গ জঙ্গি রফতানি করছে। সারা ভারতবর্ষে কোথাও জঙ্গি, উগ্রপন্থী ক্রিয়াকলাপ নেই, বোমা বন্দুকের আওয়াজ নেই। কেবল পশ্চিমবাংলায় বোমা-বন্দুক, খুন, জঙ্গি রফতানি হচ্ছে। জঙ্গির রফতানি বেড়ে গিয়েছে”।
তাঁর আরও দাবী, “পঞ্জাবের গ্যাংস্টার নিউটাউনের সাপুরজি থেকে ধরা পড়ছে। গুজরাট থেকে সোনা চুরি করে এখানে লুকোচ্ছে। বাংলাদেশ, নেপাল সীমান্ত দিয়ে লোকজন এখানে ঢুকছে। এখানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বানিয়ে ট্রেনিং দিয়ে সারা ভারতবর্ষে পাঠিয়ে উৎপাত করা হচ্ছে। একটার পর একটা জেলা জঙ্গিদের আড্ডা হয়ে যাচ্ছে”।
এদিন রাজ্য পুলিশকেও একহাত নিয়ে মেদিনীপুরের সাংসদ বলেন, “এখানে পুলিশের কাজ বিজেপিকে কেস দেওয়া আর তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটানো। সরকারের হাতে টাকা নেই বলে পুলিশকে তোলাবাজ করে দেওয়া হয়েছে। বেতন, ডিএ, পেনশন দিতে পারছে না, পুলিশকে বলে দেওয়া হয়েছে, যেভাবে হোক টাকা তুলতে। মানুষের আইন মানা উচিত। তা বলে যে কোনও জায়গায় সবাইকে ধরে ফাইন করবে, এটা ঠিক নয়। এভাবে তো মানুষ রাস্তায় বেরতে পারবে না”।





