গতকাল, রবিবার রিষড়ায় রামনবমীর (Ram Navami) মিছিলে হামলা হয়। সেই হামলার জেরে আক্রান্ত হন বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ (Biman Ghosh)। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) গাড়ির সামনে ফাটে বোমা। ঠিক সময়ে তাঁকে সেই স্থান থেকে না সরিয়ে আনলে বড় কোনও বিপদ ঘটতে পারত বলে জানা গিয়েছে। এবার এই নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করলেন দিলীপ। তাঁর কথায়, ‘গুন্ডা’ দিয়ে রাজনীতি করতে চাইছে তৃণমূল (TMC)।
আজ, সোমবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন দিলীপ ঘোষ। এর আগে রিষড়ায় অশান্তি নিয়ে রাজ্য সরকারকে একহাত নেন তিনি। রিষড়ার এই ঘটনায় বিজেপিকে আক্রমণ করে ‘ক্রিমিনালের দল’ বলে কটাক্ষ করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কটাক্ষের জবাব দিয়ে দিলীপ বলেন, “১২ বছর ধরে আমি রিষড়া যাচ্ছি। উনিও তো সাংসদ ছিলেন। কোনও দিন তো গণ্ডগোল হয়নি। আজ কেন হচ্ছে? গোটা রাজ্য জুড়ে কেন হচ্ছে? সংখ্যালঘু ভোট ফিরিয়ে আনার জন্য? নাকি ভয় দেখানোর জন্য”?
মেদিনীপুরের সাংসদের কথায়, এই পরিস্থিতি ঘুরতে বেশি সময় লাগবে না। তাঁর কথায়, হিন্দুরা যদি ধার্মিক উৎসব না পালন করতে পারে, তাহলে তারাও তৃণমূলকে নিয়ে ভাববে। গুণ্ডাদের দিয়ে বেশিদিন রাজনীতি চালানো যায় না বলে অভিযোগ করেন দিলীপ। তিনি এও জানান যে এই বিষয় নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরে চন্দ্রকোণায় শুভেন্দু অধিকারীর সভার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। সেই সম্পর্কে দিলীপ বলেন, “নেহাত রামনবমী বলে দিতে বাধ্য হয়েছিল ধার্মিক সেন্টিমেন্ট আছে বলে। নাহলে আমাদের কর্মসূচিতে ওরা অনুমতি দেয়না”। তাঁর কথায়, বিজেপি সভা করলে হাজার হাজার লোক রাস্তায় নামছে কিন্তু তৃণমূলের সভায় ভিড় হচ্ছে না। এই কারণেই অনুমতি মেলেনি সভার।
দিলীপের দাবী, গত বুধবার শহিদ মিনারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় তেমন ভিড় হয়নি। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সেদিন খোকাবাবুর ধর্না মঞ্চে মেরেকেটে ৫০-১০০ লোক হয়েছিল। ওরা চিত্র বুঝে গিয়েছেন। তাই ঘেঁটে দিতে চাইছেন”।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ মন্তব্য করেছেন যে বিজেপি রামনবমী নিয়ে ‘শকুনের রাজনীতি’ করছে। সেই কটাক্ষের জবাব দিয়ে দিলীপ বলেন, “সারা বছর মানুষ রামকে নিয়ে মেতে থাকে। ভারত রামের জায়গা। এখানে চলবে”।





