‘মুখ্যমন্ত্রীই ঠিক করে দেন কে চোর আর কে চোর নয়’, পার্থকে নিয়ে সৌগতর ব্যাখা প্রসঙ্গে তৃণমূলকে নিশানা দিলীপের

পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) দলের জন্য বিড়ম্বনা কিন্তু অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal) বা মানিক ভট্টাচার্য (Manik Bhattacharya) তা নন। কিছুদিন আগেই এমনই মন্তব্য করেছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy)। তাঁর সেই মন্তব্যকে ঘিরে বেশ তরজা শুরু হয় রাজনীতির অন্দরে। এবার সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই ফের ঘাসফুল শিবিরকে আক্রমণ শানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বললেন, “মুখ্যমন্ত্রীই ঠিক করে দেন কে চোর আর কে চোর নয়”।  

গত বুধবার পার্থর প্রতি দলের এমন মনোভাব কেন, তা ব্যাখা করতে গিয়ে সৌগত রায় বলেছিলেন, “পার্থের ক্ষেত্রে স্তূপীকৃত নগদ টাকা উদ্ধার হতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু মানিকের ক্ষেত্রে টাকা পাওয়া যায়নি। অনুব্রতের ক্ষেত্রেও মোটা পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়নি”। এরপর সৌগত আরও বলেন, “পার্থের সহযোগীর থেকে যে টাকা পাওয়া গিয়েছে, সেটা সবাই দেখেছে। এর পর দল চুপ করে থাকতে পারে না। বাকিদের ক্ষেত্রে তো কিছুই প্রমাণিত হয়নি”।

তৃণমূলের তিন শীর্ষ নেতার গ্রেফতারির পর তাদের প্রতি এহেন বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ করতে শুরু করে বিরোধী শিবির। এবার সৌগত রায়ের যুক্তির পাল্টা দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করে দেন, কে চোর আর কে নয়। সৌগত রায়দেরও তাই একই কথা বলতে হচ্ছে। তৃণমূলে কোনও নীতি নেই। একটাই আছে দুর্নীতি”।

বলে রাখি, দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত এই মামলা গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। হাইকোর্টের নির্দেশে এই নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। অর্পিতার দু’টি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় ৫০ কোটির বেশি টাকা ও প্রচুর সোনা-গয়না।

শুধু পার্থই নন, এই নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সিবিআইয়ের জালে আটক হন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। গ্রেফতার করা হয়েছে কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, শান্তিপ্রসাদ সিনহা, অশোক কুমার সাহা ও আরও বেশ কয়েকজনকে। গরু পাচার মামলায় সিবিআই গ্রেফতার করেছে বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে।

পার্থর গ্রেফতারির পরই তাঁর সঙ্গে স্মত সম্পর্ক ছিন্ন করে তৃণমূল। মন্ত্রিত্ব ও তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। তবে অনুব্রত বা মানিকের ক্ষেত্রে তেমনটা করতে দেখা যায়নি তৃণমূলকে। বরং, অনুব্রতকে সমর্থন করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি মানিকের সঙ্গেও এখনও পর্যন্ত কোনও দূরত্ব তৈরি করেনি তৃণমূল।

RELATED Articles