সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিই ভোটে জিততে নানান প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। চলছে সভা-পাল্টা সভা, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ। একে অপরকে শানাতে একচুলও জমি ছাড়ছে না কেউই। এরই মধ্যে নানান কর্মসূচি, প্রকল্পের ঘোষণা করা হচ্ছে দলগুলির তরফে।
সম্প্রতি পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জনসংযোগ বাড়াতে ‘দিদির রক্ষাকবচ’ নামের একটি কর্মসূচির ঘোষণা করেছে তৃণমূল। এই কর্মসূচিতে তৃণমূল নেতারা নির্দিষ্ট একটি গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ শুনবেন। এই কর্মসূচি নিয়ে খোঁচা দিয়ে এবার বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বললেন, “তৃণমূল নেতাদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কথা বলা হলেও কেউ যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী জাটুয়া, রায়দিঘী গিয়ে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে মাছ ভাত খেয়েছিলেন। ওনার দলের কেউ ওনাকে খেতে দেয়নি”।
আবার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে পরপর দু’দিন পাথর হামলা নিয়েও এই মুহূর্তে চর্চা বঙ্গ রাজনীতিতে। শাসক-বিরোধী একে অপরকে এই নিয়ে শানাচ্ছে। একদিকে, তৃণমূলের দাবী, এই কাজ করেছে বিজেপি। তাদের কথায়, নিজেদের ঢাক পেটানোর জন্য অর্থাৎ ওই ট্রেনের চাহিদা বাড়াতে এমন হামলা করা হয়েছে। আবার বিজেপির দাবী তৃণমূল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণ এ কাজ করেছে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “জয় শ্রী রামের বদলা কী আর পাথর ছুঁড়ে মারা যায়? যে ট্রেন রাষ্ট্রবাদীতার প্রতীক, সাধারণ মানুষের কাজে আসে তার গায়ে পাথর ছুঁড়ে মারলেই কী দেশের রক্ষাকর্তা হওয়া যায়”?
তাঁর কথায়, “দেশের মানুষ কতো খুশি ছিল এই ট্রেন নিয়ে। আমরা দেখেছি, স্টেশনে স্টেশনে কি বিপুল উন্মাদনা। সাধারণ মানুষ ট্রেনকে স্বাগত জানানোর জন্য কতো উৎসাহী ছিল”।
মেদিনীপুরের সাংসদের সংযোজন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চয়ই এতে খুব একটা খুশি হননি। তিনি নাকি রাজ্যটাকে আরও পিছনের দিকে টেনে নিয়ে চলেছেন। আর যেখানে বিজেপি চাইছে জনগণ তথা রাজ্যটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি তাও করতে দিচ্ছেন না”।
তিনি আরও বলেন, “অনেক টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত এই সেমি বুলেট ট্রেনটি বানানো হয়। কিন্তু হয়তো রাজ্যের মানুষ বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দল এতে রাজী নয়, তাই আজ এই অবস্থা। আর তাই আজ এটা তাঁদের দায়িত্ব রাজ্যকে এইসব মানুষের হাত থেকে রক্ষা করা এবং উচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা”।





