“আমাদের মারতে হবে না, জনতাই জামাকাপড় খুলে নেবে”, আরামবাগের কর্মীসভায় তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশই আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে পড়ছে তৃণমূল ও বিজেপির দ্বন্দ্ব। বিজেপি বিধানসভা ভোটে বাংলাকে পাখির চোখ করেছে, এর জেরে নিজের মতো নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছে তারা। অন্যদিকে, নিজের গদি বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শাসক দলনেত্রীও। আজ, বৃহস্পতিবার, আরামাবগে এক দলীয় কর্মীসভায় যোগ দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে ফের একবার তৃণমূলের দিকে নানান অভিযোগের আঙুল তোলেন তিনি।

এদিন শাসকদলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “তৃণমূলের নেতাদের সামনে সব পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের পাহারা দেয়। যাতে না তারা আমাদের দলে এসে যোগ দিয়ে দেয়”। তিনি আরও বলেন, বিজেপি তাদের মারবে বলে নাকি তাদের বাড়িতে পাহারা বসানো। কিন্তু এদিন আক্রমণ শানিয়ে দিলীপবাবু বলেন যে, “আমাদের মারতে হবে না, তা চলছে তাতে জনতাই এসে জামাকাপড় খুলে নেবে”।

এদিন তৃণমূলকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ পরিবর্তনের আশায় মা-মাটি-মানুষকে এনেছিল। কিন্তু আজ সেই মানুষদের উপরেই অত্যাচার চলছে। রাজ্যে আলকায়দা, সিমি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর পুলিশ তাদের ধরতে গেলেই বদলি করে দিচ্ছে”।

তাঁর অভিযোগ, বাংলায় আমফানের পর ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তহবিল থেকে রাজ্যকে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ২০ হাজার টাকা করে পাবে, কিন্তু সেই টাকা অসহায় মানুষদের ব্যাঙ্কে যায়নি। গিয়েছে তৃণমূল নেতাদের ব্যাঙ্কে। আর কেন্দ্র থেকে হিসাব চাইলে বলা হয় যে ভুল করে টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গেছে। দিলীপবাবু দাবী করেন, এরকম ভুল তাদের সঙ্গেই কেন হয়, “কোথায় ভুল করে তো আমার অ্যাকাউন্টে টাকা আসে না”।

এদিনে সভাতে তিনি বলেন কাটমানি ও সিন্ডিকেটের সরকার আর বেশিদিন নেই। বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছে যে বিজেপি কাজ করতে চায়। তাই তারা বিজেপিকেই আনবে আগামী নির্বাচনে। গতবার লোকসভা ভোটে বিজেপি ১৮টি আসনে জিতেছে, তাই বাংলার মানুষ ভেবেছে বিজেপি জিততে পারবে। পদ্ম শিবিরের হাত ধরেই বাংলায় উন্নয়ন আসবে বলেই দাবী করেন দিলীপ ঘোষ।

RELATED Articles