একদিকে ছুটির মেজাজ, অন্যদিকে সমুদ্রের ঢেউ – দিঘা মানেই বাঙালির প্রিয় উইকএন্ড গন্তব্য। সমুদ্রতট ঘেঁষা এই শহরে সম্প্রতি তৈরি হওয়া এক জগন্নাথ মন্দির ঘিরে এখন উত্তাল রাজনীতি। পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত এই এলাকাতেই মন্দির তৈরির পর শুরু হয়েছে নাম নিয়ে বিতর্ক। ‘ধাম’ শব্দটি ব্যবহার করতেই উঠেছে প্রশ্ন। অথচ, ধর্মীয় বিশ্বাস আর ভক্তির জায়গা থেকে অনেকেই মন্দির দর্শন করছেন শ্রদ্ধা নিয়ে।
বাংলায় বড় কোনও মন্দির তৈরি হলে তা ঘিরে ধর্মীয় আবেগ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সম্প্রতি দিঘায় গড়ে ওঠা জগন্নাথ মন্দির যেন সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোরে জড়িয়ে পড়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, এই মন্দির কি শুধুই পর্যটনের প্রসার, নাকি রাজনৈতিক সমীকরণও রয়েছে এর পেছনে? সামাজিক মাধ্যমে চলছে জোর বিতর্ক। আর সেই বিতর্কেই এখন জড়িয়ে পড়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ‘জগন্নাথ ধাম’ নামটি। ওড়িশার মানুষের একাংশের দাবি, ‘ধাম’ শব্দটি কেবলমাত্র পুরীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাদের মতে, এই বিশেষ উপাধি ধর্মীয়ভাবে এবং ঐতিহাসিকভাবে পুরীর সঙ্গেই জড়িত। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে, দিঘার মন্দিরে ব্যবহৃত মূর্তির কাঠ পুরীর নবকলেবর উৎসবের উদ্বৃত্ত কাঠ। ফলে এই মন্দিরকে সমান গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছেন ওড়িশার বহু মানুষ। বিতর্ক এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে রাজ্য সরকারও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এই বিতর্কের মাঝেই দিঘার মন্দিরে সস্ত্রীক উপস্থিতি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে বিজেপির অন্দরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন দিলীপ ঘোষ। দলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দিলীপবাবুকে বিঁধছেন। এমনকি, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কটাক্ষ চলছে ঘরোয়া মঞ্চে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অযোধ্যার রামমন্দির উদ্বোধনের সময়ে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না, সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে দিঘায় গিয়ে কী বার্তা দিতে চাইলেন?
আরও পড়ুনঃ Weather update : ৮ মে-র আগে ফের ঝড়বৃষ্টি, তার পর তাপপ্রবাহ! কি জানালো আবহাওয়া দপ্তর!
সবশেষে, বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষ যা বললেন, তাতে স্পষ্ট তাঁর ক্ষোভ। সংবাদমাধ্যমের সামনে দিলীপ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধনে যাননি। সেই দুঃখে দিঘায় মন্দির তৈরি করলেন।” পাশাপাশি, তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এমন সব নাম দিয়েছেন মেট্রো স্টেশনের, যেগুলো শুনলে বোঝাই যায় না কোন জায়গা কোথায়।” যদিও কটাক্ষের সুর থাকলেও দিলীপ ঘোষ পুরোপুরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণে যাননি। বরং নিজেকে সৌজন্য রক্ষা করার পক্ষেই তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, “আমি সৌজন্য দেখিয়েছি। মানুষ শিবের পুজো বাড়িতেও করেন, আবার কাশীতেও যান। এতে কোনও সমস্যা নেই।”





