গতকালই তিনি রাজ্যসভায় তৃণমূল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত স্বভাবতই কপালে ভাঁজ ফেলেছে শাসকদলের। হঠাৎ তাঁর এই পদত্যাগের কারণে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। দলছাড়ার পর এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দীনেশ ত্রিবেদী। বললেন, দলের অন্দরে অনেক সমস্যা ছিল। প্রতিদিন নরেন্দ্র মোদীকে গালিগালাজ করতে বলা হত। কিন্তু স্রেফ বিরোধিতার কারণে সমালোচনা করা তাঁর নীতি বিরুদ্ধ।
অনেকদিন ধরেই দলের প্রতি ক্ষোভ জন্মেছে তাঁর। এর জেরেই অন্তরাত্মার ডাক এসেছে। পদত্যাগ করেছেন তিনি। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “রাজ্যসভার মতো পবিত্র জায়গায় থেকে কাজ করতে পারছিলাম না। আমি পিতামহ ভীষ্মের মতো হতে চাই নি। মহাভারতে হিংসা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করায় তাঁকে দোষারোপ করা হয়েছিল। দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি চুপ থাকতে পারিনি”।
তিনি আরও বলেন যে, “বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে যখন হামলা হয়, আমি দলের মধ্যে প্রিবাদ করেছিলাম। আমায় প্রতিদিন বলা হত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গালিগালাজ করতে। তা আমার মূল্যবোধের সঙ্গে খাপ খায় না। প্রধানমন্ত্রী যদি ভালো কিছু করেন, তবে যা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। এদিকে সরকার কিছু ভুল করলেও সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে”।
তাঁর দলত্যাগের পরই যে প্রশ্নটি উঠে আসছে যে তিনিও কী তবে গেরুয়া শিবিরে যাবেন। এই প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন যে মোদীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। এমনকি সিপিআইএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি, বিমান বসু, সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো। তাঁর কথায়, বিরোধী দল মানেই যে শত্রু তা তিনি মনে করেন না।
এরপর বিজেপিতে যোগ দেওয়া তাঁর বক্তব্য, তিনি বিজেপি ও দলের শীর্ষনেতাদের কাছে কৃতজ্ঞ যে তারা তাঁকে দলে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি গেরুয়া দলে যাবেন কী না, এ বিষয়ে এখনই স্পষ্ট কিছু জানাননি দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর কথায়, তাঁর ধাতস্থ হওয়ার জন্য সময় লাগবে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, দীনেশ ত্রিবেদী যে বিজেপিতেই যোগ দেবেন, তা নিশ্চিত।





