গণস্বাক্ষর করে সরব মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা! পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক কি সত্যিই অপরাধী, নাকি ফাঁসানো হচ্ছে?

একজন চিকিৎসক, যিনি মানুষের সুস্থতার দায়িত্বে, তার বিরুদ্ধে যদি গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একধরনের নির্ভরতা, যা এতদিন ধরে গড়ে উঠেছে। কিন্তু যখন সেই বিশ্বাসে আঘাত আসে, তখন মানুষের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। বিধাননগরের পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘিরে তেমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা ইতিমধ্যেই আলোড়ন ফেলেছে।

এই ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠছে, মহিলা কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাগুলি কতটা কার্যকর? কর্মস্থলে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত বিশাখা গাইডলাইন থাকলেও, বাস্তবে তা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হয়, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন তাঁরা, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এতদিন প্রকাশ্যে কিছু বলা হয়নি। তবে এবার তাঁরা সরাসরি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন, যা বিষয়টিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

বিধাননগর পুরসভার একাধিক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী গণস্বাক্ষর করে অভিযোগ জানিয়েছেন, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত এক প্রবীণ চিকিৎসক তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা এবং এক কর্মীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী-সহ একাধিক পুর আধিকারিকের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত চিকিৎসক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।

এখানেই শেষ নয়, অভিযোগকারীরা পুলিশি ব্যবস্থার দাবিও তুলেছেন। বিধাননগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি প্রসেনজিৎ নাগ পুলিশকে চিঠি দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বিশাখা গাইডলাইন অনুযায়ী অভিযোগ নথিভুক্ত করার সুপারিশ করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলছেন অভিযোগকারীরা।

আরও পড়ুনঃ গরমের দাপটে হাঁসফাঁস দক্ষিণবঙ্গ! তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা, এবার কী হবে?

অভিযুক্ত চিকিৎসক বর্তমানে অবসরের পর এক্সটেনশনে আছেন। আগেও তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিল বলে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র পারিষদ বাণীব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন। তিনি জানান, চিকিৎসকের নিয়োগ জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব তাদেরই। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে অবগত করা হয়েছে। এখন দেখার, অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles