আর জি কর কাণ্ডে লালবাজারের তরফে তলব করা হয়েছিল চিকিৎসক কুণাল সরকার ও সুবর্ণ গোস্বামীকে। গতকাল, রবিবারই তাদের হাজিরা দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে গতকাল হাজিরা দেন নি তারা। আজ, সোমবার লালবাজারের পথে রওনা দিলেন দুই বিশিষ্ট চিকিৎসক। মিছিল করে লালবাজার যাচ্ছেন তারা। সঙ্গে চিকিৎসক সংগঠন।
চিকিৎসক কুণাল সরকার ও চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ করেছেন। নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে ভুল তথ্য প্রকাশ করার কারণে দুই চিকিৎসককে তলব করা হয়েছিল বলে খবর। ৩৫ বিএনএস ধারায় অভিযুক্ত হিসেবে নোটিশ পাঠানো হয় তাদের। লালবাজার সাইবার ক্রাইম এই নিয়ে অভিযোগ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এই তলবের বিষয়ে চিকিৎসক কুণাল সরকার জানিয়েছিলেন, তিনি এই মুহূর্তে কলকাতায় নেই। সোমবার ফিরবেন তিনি। এরপর আইনি পরামর্শ নেবেন। তিনি জানান, তাঁর মতামতও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, যদি তলব যুক্তিসঙ্গত মনে হয়, তাহলেই তিনি হাজিরা দেবেন।
এদিন লালবাজারের উদ্দেশে মিছিলের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তথা চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, তারা কোনও অসত্য তথ্য উলে ধরেন নি। তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি যখন আর জি করে পৌঁছন, তিনি জানতে পারেন ততক্ষণে তরুণী চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে তাঁর যা মনে হয়েছিল, তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তিনি সেসবই তুলে ধরেছিলেন।
চিকিৎসকের কথায়, কোনও ভুল তথ্য দেওয়া হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই তিনি সমস্ত তথ্য সর্বসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি এও জানান, তিনি বা চিকিৎসক সংগঠনের কোনও সদস্য নির্যাতিতার নাম প্রকাশ্যে উচ্চারণ করেন নি। তা সত্ত্বেও ভুল অভিযোগ দিয়ে কেন তাদের তলব করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুবর্ণ গোস্বামী।
তিনি এও জানান, চিকিৎসক সংগঠনের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যাতে কোনওভাবেই তলব করা চিকিৎসকদের গ্রেফতার না করা হয়। তেমনটা হলে, তাদের এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
কিন্তু অন্যদিকে জানা যাচ্ছে, চিকিৎসকদের এই মিছিল আটকাতে ফিয়ার্স লেনে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। মিছিল যাতে লালবাজার পর্যন্ত এগোতে না পারে, সেই কারণেই এমন বাধা। এই বাধা পেরিয়ে চিকিৎসকদের মিছিল কী পৌঁছতে পারবে লালবাজার নাকি ফের হাতাহাতির সাক্ষী থাকবে কলকাতা?





