‘সতীদাহের সময়ও ঢাকঢোল বাজিয়ে উৎসব হত যাতে…’, আর জি কর আবহে দুর্গাপুজো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বিশিষ্ট চিকিৎসকের

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে প্রায় ২ মাস কাটতে চলল। কিন্তু বিচার এখনও অধরা। এখনও মানুষ পথে নামছেন বিচারের দাবীতে। জুনিয়র চিকিৎসকরা এখনও কর্মবিরতিতে অনড়। তবে সবকিছুর মধ্যেও দুর্গাপুজোর আমেজে কোনও খামতি নেই। এবার এই নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর জি করের ঘটনার একমাসের মাথায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনগণকে ‘উৎসবে ফিরুন” বলে বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর সেই মন্তব্যকে তুমুল কটাক্ষ করা হয় নানান স্তর থেকে। অনেকেই বলেছিলেন তারা উৎসবে ফিরছেন না। তবে মহালয়ার সন্ধ্যেতে যেন আমূল বদলে গেল চিত্রপট। মহালয়ার দিনই প্রতিমা দর্শনের যে ঢল নেমেছিল, তাতে পুজোর বাকিদিনে কী হবে, তা নিয়ে বেশ চর্চা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ যে উৎসবে ফিরছে, একথা কিন্তু বেশ স্পষ্ট।

এমন আবহে এবার উৎসবকে কটাক্ষ করলেন চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জি করের ঘটনায় প্রথম থেকেই সরব হয়ে নানান মন্তব্য করেছেন তিনি। রাজ্য সরকারকেও নানাভাবে দুষেছেন। এবার দুর্গোৎসবের সঙ্গে তিনি তুলনা টানলেন সতীদাহ প্রথার। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “সতীদাহের সময়ও ঢাক ঢোল বাজিয়ে উৎসব করা হতো। যাতে সতীর কান্নার আওয়াজ কারও কানে না পৌঁছায়”।

তাঁর এই পোস্টকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেকেই। কেউ কমেন্ট করে লিখেছেন, “ঠিক তাই। সতীদাহের পক্ষে অন্যতম প্রবক্তারা ছিলেন, সে যুগের সমাজপতিরা। যারা সমাজের ওপর নিজেদের দখলদারী কোন অবস্থায় যাতে চলে না যায়, তাই তারা প্রচলিত ব্যাবস্থার পরিবর্তনের তীব্র বিরোধী ছিলেন।সমাজের ওপর তারা তাদের দখলদারী ছাড়তে রাজী ছিলেন না। ওরা সতীদাহের পক্ষে ৩৭ হাজারের বেশী সই সংগ্রহ করেছিল, অন্যদিকে সতীদাহের বিপক্ষে সমাজ সংস্কাররা সহ বিদ্যাসাগর মহাশয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্বেও মাত্র ৯০০ র কিছু বেশি মানুষের সই সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যদিও পরিশেষে বিদ্যাসাগর মহাশয়েদের পক্ষে সমর্থন সামান্য হলেও, ব্রিটিশ সরকার মানবিক কারণে সতীদাহ প্রথা বিরোধীতাকে মান্যতা দিয়ে ছিল। পরবর্তীকালে আমাদের সমাজ তা সেচ্ছায় মেনে নিয়েছিল। সব ক্ষেত্রে সংখ্যাটাই বড় নয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই অভয়ার ন্যায় বিচার হবে এটা তামাম সুস্থ মানুষের আন্তরিক প্রত্যাশা, অপরাধীদের শাস্তি হবেই”।

আরও পড়ুনঃ ছাত্রছাত্রীদের শারদীয়ার বড় উপহার দিলেন মমতা, পুজোর আগেই ১০ হাজার টাকা পাবেন পড়ুয়ারা, বেজায় খুশির হাওয়া পড়ুয়ামহলে

আবার একজন কমেন্ট বক্সে লিখেছেন, “একদম, যত কান্নাকাটি তত জোরে ঢাকের আওয়াজ, ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে”। অন্য একজন লেখেন, “শুধুমাত্র ঢাকই নয়, সেই সঙ্গে প্রত‍্যেক বাতিস্তম্ভে গড়ে তিন থেকে চারটি মাইক লাগিয়ে দিবারাত্র কানফাটা তীব্র উৎসবের আওয়াজ হয়ে চলেছে”। কারোর কথায়, “উৎসবকে পৈশাচিকতা ঢাকার জন্য আজন্মকাল ধরে ব্যবহার করা হয়েছে”। চিকিৎসকের এই পোস্টে অনেকেই বলেছেন যে পুজোর সময়ও তারা আন্দোলন জারি রাখবেন। কিন্তু পুজোর আমেজে এই প্রতিবাদের ভাষা আদৌ কতটা জোরালো রূপ পাবে, তা নিয়ে বেশ ধন্ধ কিন্তু রয়েই যাচ্ছে!

RELATED Articles