আর জি করের আর্থিক দুর্নীতি ও থ্রেট কালচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ টিএমসিপি চিকিৎসক নেতা আশিস পাণ্ডে। আর জি কর কাণ্ড নিয়ে প্রথম থেকেই সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন। এবার আশিস পাণ্ডেকে নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। জানালেন, এই আশিস পাণ্ডের হুমকির শিকার তাঁর মেয়েও।
শান্তনু বলেন, “আর জি কর মেডিক্য়াল কলেজে All India Trinamool Congress এর ছাত্র সংগঠনের সভাপতি সেজে আমাদের নেত্রী মমতা ব্য়ানার্জি ও নেতা অভিষেক ব্যানার্জির নাম বদনাম করে দীর্ঘদিন নানা ধরনের দুর্নীতির নায়ক হয়ে থেকেছে এই আশিস পাণ্ডে। কলেজ কর্তৃপক্ষের কারা কারা, তার মাথায় হাত রেখেছিল, সেটাও আজ সবারই জানা হয়ে গেছে। জুনিয়রদের ভয় দেখানো, ফেস্টিভ্যালের নামে টাকা তোলা, পরীক্ষায় পাশ ফেল নিয়ন্ত্রণ করা, প্রশ্ন বলে দেওয়া , হোস্টেলে হোস্টেলে রেগিং করা, বেআইনিভাবে হাউসস্টাফশিপ দেওয়া, সিনিয়ার ডাক্তারদের মারধর করা, প্রাক্তনীদের ঘরে তালা মেরে দেওয়া সহ বিভিন্ন আর্থিক দুর্নীতির নায়ক ছিল এই বিখ্যাত আশিস পাণ্ডে”।
জুনিয়র চিকিৎসকরাও এই এমনই অভিযোগ বেশ কিছু সপ্তাহ ধরে করে আসছেন। শান্তনুর কথায়, “আমার মেয়েকে, যে ওই কলেজের ছাত্রী, তাকে ভয়ঙ্কর ভাবে মানসিক নির্যাতন করেছে দিনের পর দিন, রাত পৌনে বারোটার সময় ফোন করে হুমকি দিয়েছে, কলেজের মধ্যে এক ঘরে করে রেখেছে, পরীক্ষায় ফেল করানোর চেষ্টা করেছে।বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাকেও মারাত্মকভাবে অপমান করেছে , আমার নামে মিথ্যা পোস্টার মেরেছে, সাঙ্গ পাঙ্গ নিয়ে মারতে এসেছে।আজ আবার প্রমাণ হলো এইসব খলনায়কদের বিচার যখন আমরা করতে পারিনা ,তখন ঈশ্বর বিচার করে দেন । আশা করি এখনো যারা এই আশিস পাণ্ডের মত আমাদের দলে থেকে তাদের কৃত কুকর্মের জন্য দলকে বদনাম করছে, অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে দল তাদের বিচার করবে”।
কী পরিচয় এই আশিস পাণ্ডের?
জানা গিয়েছে, আশিস পাণ্ডে ২০১৭ সালে এমবিবিএস-এর ছাত্র হিসেবে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা শুরু করেন। ২০২২-২৩ সালে ইন্টার্নশিপ করেন তিনি। এরপর আর জি করেই হাউস স্টাফ হিসেবে কাজ শুরু করেন। ছ’বছরে সন্দীপ ঘোষের বিশেষ ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এই আশিস পাণ্ডে। ২০২৩ সালে যখন চিকিৎসক পড়ুয়াদের আন্দোলনে আর জি কর উত্তাল হয়েছিল, সেই সময় সন্দীপ ঘোষের সমর্থনে সুর চড়ান তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘সতীদাহের সময়ও ঢাকঢোল বাজিয়ে উৎসব হত যাতে…’, আর জি কর আবহে দুর্গাপুজো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য বিশিষ্ট চিকিৎসকের
সন্দীপ ঘোষ একমাসের জন্য অধ্যক্ষ ছিলেন না আর জি করে। তিনি ফিরে আসার পর এই আশিস পাণ্ডে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ২০ জনকে হোস্টেলে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে রেখেছিলেন। সন্দীপের বিরোধিতা করলেই পড়ুয়াদের আশিসদের থ্রেট কালচারের কোপে পড়তে হত বলে অভিযোগ। হোস্টেলে পার্টির আসর থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গে বদলির হুমকি, সবটাই প্রকাশ্যে চালাতেন এই আশিস পাণ্ডেরা, এমনটাই জানাজাচ্ছে। এমনকি, ৯ আগস্ট যেদিন তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়, সেদিন সুদীপ্ত রায়ের ফোনেই আর জি কর গিয়েছিলেন এই আশিস পাণ্ডে। সন্দীপ ঘোষের পাশে দাঁড়াতে যান তিনি। সেই আশিস পাণ্ডের বিরুদ্ধে এবার আরও তথ্য দিলেন তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন।





