চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি কী না আর জি কর কাণ্ডের আন্দোলনে প্রথম থেকেই সরব হয়ে এসেছেন, তাঁকে নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক দানা বেঁধেছে ঢের। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের সঙ্গে তাঁর একান্তে বৈঠক নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন। এমন নানান বিতর্কের মুখে পড়ে এবার নিজের ব্যাখ্যা দিলেন চিকিৎসক।
এর আগে কুণালের সঙ্গে তাঁর বৈঠক নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “জুনিয়রদের ভালর জন্য যা করার করেছি। আমি প্রথমে মানুষ, তারপরে ডাক্তার, তারপরে আমার রাজনৈতিক সত্ত্বা”। কিন্তু এরপরও বিতর্ক থামেনি। জুনিয়র চিকিৎসক থেকে শুরু করে চিকিৎসক সংগঠনের তরফে তাঁর এহেন কার্যকলাপের বিরোধিতা করা হয়। এও জানানো হয়, এটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আন্দোলনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।
যখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে কেন কুণালের ঘোষের সঙ্গেই বৈঠক করলেন নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাও এভাবে কাউকে না জানিয়ে আড়ালে-আবডালে, সেই সময় নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিলেন চিকিৎসক। নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “ওরা ঠিকই বলেছে আমি চাইলে তো মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করতে পারতাম! কিন্তু প্রথমে হায়ার কোর্টে যাওয়ার থেকে লোয়ার কোর্টে যাওয়া ভালো নয় কি! সেজন্যই আমি প্রথমে কুণাল ঘোষের কাছে গিয়েছিলাম”।
বলে রাখি, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি ভাইরাল হয়। ছবিতে কুণাল ঘোষ ও চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায়। সেই ছবি পোস্ট করেছিলেন কুণাল নিজেই। ক্যাপশনে লেখা ছিল, “ডাঃ নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছিলেন। কিছু বিষয় নিয়ে কথা হল”। এরপর থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।
আসলে আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলনকে প্রথম থেকে রাজনৈতিক রঙ লাগা থেকে সরিয়ে রেখেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেই কারণে তাদের অবস্থান মঞ্চে যখনই কোনও রাজনৈতিক নেতারা হাজির হয়েছেন, তখন তাদের তারা গো ব্যাক স্লোগান দিয়েছেন। তাদের কথায়, এই আন্দোলন গণ আন্দোলন, জনসাধারণের আন্দোলন। সেখানে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি যদি নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়, তাহলে তারা তা হতে দেবেন না। সেই কারণেই কুণালের সঙ্গে চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ নিয়ে সরব জুনিয়র ও সিনিয়র চিকিৎসকরাও।
যদিও কুণাল ঘোষের কথায়, “আমি মনে করি উনি জুনিয়র চিকিৎসকদের প্রকৃত শুভানুধ্যায়ী। ধাপে ধাপে আলোচনার মাধ্যমে জট খোলার প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছিলেন”।





