শিল্পকে হাতিয়ার করেই সিঙ্গুরে এবার আন্দোলন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। যে জায়গা থেকে বাংলায় পরিবর্তনের বীজ বপন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই ফের একবার রাজ্যের শিল্পনীতিকে কটাক্ষ করে শাসক দলকে তোপ দাগেন শুভেন্দু। দাবী করেন, “হাতে-পায়ে ধরে টাটাকে ফেরাব”।
গতকাল, শুক্রবার সিঙ্গুরের গোপালনগর সাহানাপাড়া থেকে টাটা কারখানার এক নম্বর গেট পর্যন্ত মিছিল করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই মিছিলে অংশ নেন জেলা বিজেপির নানান শীর্ষস্তরের নেতারাও। এরপর হয় সভা। এদিন মিছিলে সকলের হাতে দেখা যায় রতন টাটার ছবি। বিজেপির দাবী, সিঙ্গুরে টাটা কারখানা তৈরি করতে চাওয়ার নেপথ্যে আসল নায়কই হলেন রতন টাটা। সেই কারণেই টাটা কারখানার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় সভা করে তারা।
এদিন সভা থেকে শুভেন্দু বলেন, “আমার দম আছে, তাই অকথিত তথ্য দিচ্ছি। সিঙ্গুরে টাটার কারখানার বিরোধিতা করার কথা মুখ ফুটে বলতে পারিনি। তৃণমূল দলের মধ্যেই ছিলাম ঠিকই, কিন্তু এই ধ্বংসযজ্ঞে সামিল হইনি। ২৬ দিনের স্যান্ডুইচ-চকলেট খাওয়া অনশনে একমাত্র বিধায়ক আমি, যে যাইনি”।
শুভেন্দুর দাবী, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে তারা টাটাকে বাংলায় ফেরাবে। তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে হাতে-পায়ে ধরে টাটাকে ফেরাব। টাটা ছাড়া শিল্প হয় না। আমি দেখেছি, এপিজে আব্দুল কালাম আর রতন টাটাকে ভাল ছাড়া কেউ খারাপ বলেনি। সিএসআর অ্যাক্টিভিটির জনক হলেন রতন টাটা। সেই টাটাকেই মমতা বলেছিলেন বর্জন করুন। আমরা ওঁর কাছে ক্ষমা চাইছি বাঙালি হিসেবে। আর শপথ করছি, আমরা ক্ষমতায় এলে আপনার প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আসব”।
শুধুমাত্র তৃণমূলই নয়, এদিন সিপিএমকেও আক্রমণ শানান বিরোধী দলনেতা। বলেন, “জাতীয় সড়ক বন্ধ করে নেচেছে, গেয়েছে। বুদ্ধবাবু যদি মমতাকে মেরে তুলে দিতেন, তাহলে সিঙ্গুরের এই অবস্থা হত না। জ্যোতিবাবু থাকলে হত না এমন। একটা কারখানাকে ভেঙে তুলে দিল, অন্তরটা জ্বলে যেত। আসলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট বুদ্ধবাবুর কথায় চলত না। জ্যোতি বাবুর কথা চলত। সিপিআইএম নির্মূল করতে হবে। আমরাই বিকল্প। আমরাই বেকারত্ব ঘুচিয়ে শিল্পায়নের জোয়ার আনব”।
আরও পড়ুনঃ ‘আগে তো লোয়ার কোর্টে যেতে হয় নাকি…’, মুখ্যমন্ত্রীর বদলে কুণালের সঙ্গে একান্তে বৈঠক নিয়ে বিতর্ক, কী সাফাই দিলেন চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
প্রসঙ্গত, বাম আমলের শেষের দিকে সিঙ্গুর আন্দোলন গোটা রাজ্যে ঝড় তুলেছিল। দীর্ঘদিন অনশন চালিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত টাটারা বাংলা ছাড়ে। পতন হয় ৩৪ বছরের বাম রাজনীতির। রাজ্যের মসনদে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা হয়, এই সিঙ্গুর আন্দোলনের জেরেই বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে রাজ্যে পরিবর্তনের জোয়ার এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ফের একবার এই সিঙ্গুর থেকেই বাংলায় ফের পরিবর্তনের ডাক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ফের কী সিঙ্গুরের হাত ধরেই পরিবর্তন আসবে বাংলায়, উত্তরটা সময়ই দেবে!





