আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের সঙ্গে এই অনশনে যোগ দিয়েছেন সিনিয়র চিকিৎসকরাও। তবে এই কর্মসূচি নিয়ে প্রথম থেকেই তৈরি হয়েছিল জটিলতা। মঞ্চ বাঁধা, বায়ো টয়লেট, চৌকি নিয়ে নানান বাধার সৃষ্টি করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে আজ, মঙ্গলবার আবার জলের গাড়িও আটকায় পুলিশ। এবার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল চিকিৎসকদের। তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তারা।
আজ, মঙ্গলবার সকালে অনশন মঞ্চে আসা জলের গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। বউবাজারের কাছে আটকে দেওয়া হয় গাড়ি। সেই খবর পেয়ে সেখানে যান চিকিৎসক ও নাগরিক সমাজ। এরপর সেখান থেকে মানববন্ধন করে জলের গাড়ি নিয়ে আসা হয় অনশন মঞ্চে। গাড়ি ব্যারিকেডের ভিতরে নিয়ে এলে সেখানকার কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ান চিকিৎসকরা।
এই বচসার জেরে উত্তপ্ত হয় ধর্মতলা চত্বর। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রায় কান্নায় ভেঙে পড়েন এক চিকিৎসক। তিনি বলেন, “এই অনশনটা তোলার জন্য এইসব সমস্যা। আমার একটাই বক্তব্য হাতজোড় করে বলছি, এই অনশন-ধর্ণাটা এরা না কোনও রাজনীতিকের বিরুদ্ধে করছেন, না কোনও সরকারের বিরুদ্ধে করছেন। যাঁরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটাকে নষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের সরাতে বলছেন। এঁরা তো বলছেন না যে, সরকার শেষ হয়ে যাক”।
তাঁর সংযোজন, “আজ যদি আমরা হেরে যাই, তাহলে এই যে লোকগুলো যারা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটাকে পুরো নষ্ট করে দিয়েছে, ডাক্তারিতে ঢুকতে টাকা, প্রত্যেকটা স্টেপে টাকা। জনগণ ভুগবে। ওঁরা তো শুধু চাইছেন, দোষীগুলোকে সরাও। সিস্টেমটা পরিষ্কার করো। ওঁরা তো আর কিছু বলছেন না। তাহলে সবাই প্রতিরোধ কেন করছেন? সরকার যদি বলে আমিও দোষীকে সরাতে চাই, একটু প্রো-অ্যাক্টিভ অ্য়াকশন নিক। একটা বছর কি পুজোর সময় না নাচলে-ঘুরলে হতো না”?
বলে রাখি, ধর্মতলায় জুনিয়র চিকিৎসকরা অনশন শুরু করার পর থেকেই নানান বাধার সৃষ্টি করছে পুলিশ। প্রথমে অনশন মঞ্চের জায়গায় বায়ো টয়লেট বসাতে বাধা দেওয়া হয়। এরপর গতকাল, সোমবার রাতে অনশন মঞ্চে চৌকি, চেয়ার আসতে বাধা দেয় পুলিশ।, সেই ঘটনায় বউবাজার থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান চিকিৎসকরা। এরই মধ্যে আজ, মঙ্গলবার সকালে জুনিয়র চিকিৎসকদের জন্য আসা জলের গাড়িও আটকায় পুলিশ। এর জেরে ধৈর্য হারান চিকিৎসকরা।





