আর জি কর কাণ্ড নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তাল পরিস্থিতি। তরুণী চিকিৎসকদের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ। দুর্গাপুজোর মধ্যেও আন্দোলনে কোনও ভাঁটা পড়ে নি। একদিকে যখন তরুণী চিকিৎসকের জন্য ন্যায় বিচার ও হাসপাতালের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সেই সময়ই ফের হাসপাতালে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা ঘটল কলকাতায়।
জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর অষ্টমীর রাতে বাইক দুর্ঘটনায় বেশ আহত হন বরানগরের এক যুবক। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় মুকুন্দপুরের এক নার্সিং হোমে। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিজনরা।
অভিযোগ, রোগীর মৃত্যুর পরই হাসপাতালে ভাঙচুর চালান রোগীর পরিজনরা। চিকিৎসকদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রোগী মারা যাওয়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল বাড়িয়েছে। যদিও হাসপাতালের তরফে বিল বাড়ানোর বিষয়টি নস্যাৎ করা হয়।
তবে মৃতের পরিবারের দাবী, “চিকিৎসকদের শুধু ঘেরাও করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কেউ তাঁদের মারধর করেনি। তেমনই যদি হয়, হাসপাতালের ক্যামেরায় সবটা ধরা থাকবে। দেখাক, আমরা ধাক্কা দিয়েছি। মারধর করেছি। আমাদের যদি ভাঙচুর করার মেন্টালিটি থাকত, তাহলে গোটা নার্সিংহোম ভাঙচুর হয়ে যেত”।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, “বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন রোগী। সবাই টাকা জোগাড় করে ওর চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসেছিলাম। ডাক্তারদের আমরা ভগবান মানি। মিথ্যে বলে বলে রোগী মারা যাওয়ার পর বিল বাড়িয়ে দিল”।
বলে রাখি, হাসপাতালে নিরাপত্তার দাবী নিয়ে আন্দোলন করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আমরণ অনশন করছেন তারা। সরকারের কাছে ১০ দফা দাবী রেখেছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। সরকারের তরফে মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও সেভাবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। এর আগে আর জি কর, সাগর দত্ত হাসপাতাল, এসএসকেএমে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার শহরের বেসরকারি নার্সিং হোমেও ঘটল এমন চিকিৎসকদের উপর হামলার ঘটনা।





