নির্বাচনের আগে রাজ্যের বাতাসে যে উত্তাপ ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে, তারই আরেকটি নতুন পর্ব যেন সামনে এল হাওড়ার ডোমজুড় থেকে। খাদ্যাভ্যাস, পরিচয় এবং রাজনীতি এই তিনটি বিষয় যখন একসঙ্গে মিশে যায়, তখন পরিস্থিতি কতটা স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক এই ঘটনা। সাধারণ এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ ঘিরে শুরু হলেও, বিষয়টি এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ছোট্ট মুরগির মাংসের দোকানকে কেন্দ্র করে। ডোমজুড়ের জগদীশপুর মোড়ে প্রায় দেড় বছর ধরে ফুটপাতে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন টুটুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, তিনি বীরভূম জেলার লাভপুরের বাসিন্দা এবং নিয়মিত ভোটার হিসেবেও তাঁর নাম রয়েছে তালিকায়। এতদিন পর্যন্ত এলাকায় কোনও সমস্যা ছাড়াই ব্যবসা চললেও, আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারের সময়ই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা তাঁর সমর্থকদের নিয়ে ওই এলাকায় যান এবং টুটুলের দোকানের সামনে দাঁড়ান। সেখানেই নাকি প্রকাশ্যে তাঁকে ‘রোহিঙ্গা’, ‘জেহাদি’ এবং ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ব্যবসায়ীকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। এমনকি, চাপের মুখে তাঁকে দোকান সরিয়ে ফেলতেও বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি আরও চর্চায় আসে, যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ কমিশনে আস্থা বনাম ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ! মোদীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক, পাল্টা মমতার আক্রমণে তুঙ্গে বাংলার নির্বাচনী সংঘা*ত!
ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রার্থীর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁর বাড়ির সামনে ওই দোকান বসানো হয়েছিল, যাতে তিনি অসুবিধায় পড়েন। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, রাজ্যে বাইরের লোক ঢোকানোর একটি চক্র কাজ করছে বলেও তাঁর সন্দেহ। তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, যদি তাঁর বক্তব্যে কোনও ভুল থাকে, প্রশাসন চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারে।
এই ঘটনার জেরে ডোমজুড় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা স্পষ্টভাবেই বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন একজন বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এমন অভিযোগের মুখে পড়লেন? আবার অন্যদিকে, পরিচয় রাজনীতি কি নতুন করে নির্বাচনের ইস্যু হতে চলেছে? সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে এই ঘটনা যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। খাদ্যাভ্যাস ও পরিচয়ের মতো সংবেদনশীল বিষয় এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, যা আগামী দিনে আরও বড় বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





