খু’লে যাচ্ছে প্যান্ট, পা টলমল, ম’দের নেশায় চুর স্যার, পড়েই গেলেন কাদার মধ্যে, বিক্ষোভ অভিভাবকদের

পা টলছে, মুখে হাসির ফোয়ারা, খুলে যাচ্ছে প্যান্ট, বেল্টটা ঠিক করতে কেটে যাচ্ছে সময়। কথা বলতে গিয়ে পড়ে গেলেন কাদায়। কাদামাখা রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছেন তিনি। পড়ুয়ারা ধরাধরি করে পৌঁছে দিলেন বাড়িতে। ঘটনাটি ঘটেছে দাসপুর এক নম্বর ব্লকে। কাদামাখা রাস্তায় গড়াগড়ি খেয়েছেন রঘুনাথপুর সরোজ মোহন স্মৃতি বিদ্যালয়ের ক্লার্ক শঙ্খ ঘোষ। স্কুলে ‘শঙ্খ স্যার’ নামে পরিচিত তিনি। তাঁর কর্মকাণ্ডেই অতিষ্ঠ এলাকার লোকজন। পড়ুয়েদের ওপর কী প্রভাব তার কথা ভাবছেন অনেকেই। ক্ষোভ উগরে দিলেন শিক্ষকেরা।

এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে স্কুলের বাইরে প্রতিবাদ করছেন এলাকার মহিলারা তখন তাঁদের সামনেই খুলে যায় শঙ্খবাবুর প্যান্ট। কাদায় ভরা রাস্তায় গড়াগড়ি খেতে থাকেন। তা দেখে হাসতে থাকেন পড়ুয়াদের একাংশ। ভিডিওতে টলতে টলতে শঙ্খ স্যার বলতে শোনা যায়, “আমার তো পায়ের সমস্যা। তাই হাঁটতে অসুবিধা হচ্ছে।” এই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে ধরেন স্কুলের রান্নার দায়িত্বে থাকা মহিলারা। স্কুলে রান্নার দায়িত্বে থাকা এক‌ মহিলা রেগে বলে ওঠেন, “দেখছেন হাঁটতেই পারছেন না। আবার বলছেন পায়ের সমস্যা। প্যান্টই খুলে যাচ্ছে ওনার। এ ছবি রোজ দেখা যায়। রোজ মদ খেয়ে স্কুলে আসেন। সবাই জানে কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এলাকার লোকজনের কথায়, “বারবার প্রতিবাদ করেও কোনও কাজ হয়নি। রোজই মদ খেয়ে স্কুলে আসেন। হেড মাস্টারকে বলেও নাকি কোনও কাজ হয়নি।” এই ঘটনায় শঙ্খ স্যারকে নিয়ে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। এক পড়ুয়া বলছে, “রোজই তো চৌমাথায় পড়ে থাকে। আমরা স্কুলে আসার সময় তুলে আনি। আজকেও স্কুলে আসার সময় দেখি স্যার রাস্তায় পড়েছিল। তারপর আমরাই স্যারকে তুলে আনি।”

এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান লালটু চক্রবর্তী বলেন, “দুয়ারে সরকার চলাকালীন উনি মদ্যপ অবস্থায় এসেছিনে। হেড মাস্টারকে আমরা বলেছিলাম। উনি বলেছিলেন আমরা স্টেপ নেব। তারপরও একই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ওনার বিরুদ্ধে। হেড স্যার আসলে কিছুই করছেন না। উনি ডিআই, এসআই কোনও অফিসেই জানাননি।”

স্কুলের প্রধান শিক্ষক কিঙ্কর চন্দ্র পাত্র বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং দুঃখপ্রকাশ করে তিনি বলছেন, “খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এভাবে স্কুলে আসা উচিত নয়। আমরা জানি বিষয়টি। ম্যানেজিং কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ওনাকে সতর্ক করা হয়েছিল।”

RELATED Articles