কলকাতার (Kolkata)ব্যস্ততম জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম হল কলকাতা মেডিকেল কলেজ (Kolkata Medical College) হাসপাতাল। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী আসেন, কেউ ভর্তি হতে, কেউ চিকিৎসার জন্য, কেউ বা শুধুই কাউন্সেলিং করাতে। এই বিশাল জনস্রোতের মাঝে হাসপাতাল চত্বরে সর্বক্ষণ নজরদারি চালায় পুলিশ বাহিনী। তাদের কাজ হল নিরাপত্তা বজায় রাখা, রোগীর পরিজনদের সহযোগিতা করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। কিন্তু, শনিবার রাতে যা ঘটল, তা দেখে হতবাক হয়ে গেলেন রোগী থেকে শুরু করে তাঁদের পরিজনরা।
রাত তখন প্রায় ১০টা বেজে ৩০ মিনিট। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের দৃশ্য ছিল অন্যান্য রাতের মতোই ব্যস্ত। কেউ স্ট্রেচারে করে রোগী নিয়ে দৌড়াচ্ছেন, কেউ ওষুধের দোকানে ছোটাছুটি করছেন, তো কেউ অপেক্ষারত আত্মীয়ের জন্য চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। ঠিক সেই সময়েই এক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেন উপস্থিত লোকজন, যা তাদের বিস্মিত করে দিল। প্রথমে সবাই ভেবেছিলেন, হয়তো কোনও রোগীর আত্মীয় অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেছেন। কিন্তু পরক্ষণেই বোঝা গেল, আসল ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা!
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছিলেন এক পুলিশ কর্মী। পায়ের উপর ভর রাখতে পারছিলেন না, চোখ-মুখ অস্বাভাবিকভাবে বুঁজে আসছিল। প্রথমে সবাই মনে করেছিলেন, হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। কিন্তু একটু এগিয়ে যেতেই নাকে এসে লাগে এক চেনা গন্ধ—মদের গন্ধ! অভিযোগ, ওই পুলিশ কর্মী মদ্যপ অবস্থায় কর্তব্যরত ছিলেন এবং অতিরিক্ত নেশার কারণে সম্পূর্ণ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। মাটিতে পড়ে তিনি ঘোরের মধ্যে কিছু অস্পষ্ট কথা বলছিলেন, যা কেউ বুঝতে পারছিলেন না।
ততক্ষণে হাসপাতালের অন্যান্য পুলিশ কর্মীদের কাছে খবর পৌঁছে যায়। দ্রুত তাঁরা ছুটে আসেন এবং ওই পুলিশ কর্মীকে ধরাধরি করে ভিতরে নিয়ে যান। স্বাভাবিকভাবেই, এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর আত্মীয়রা প্রশ্ন তুলতে থাকেন, যেখানে পুলিশ নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন, সেখানে যদি তারাই দায়িত্ব ভুলে এমন অবস্থায় থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কাদের ভরসা করবে? আরও প্রশ্ন ওঠে, কর্তব্যরত পুলিশ কীভাবে এত নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন? হাসপাতালে কর্তব্যরত অন্য পুলিশদের দায়িত্ব কি ছিল? তারা কীভাবে এতক্ষণ বিষয়টি ধরতে পারল না?
আরও পড়ুনঃ পরপর গুলিতে খতম কুলভূষণ যাদব অপহরণের মূল ষড়যন্ত্রকারী! পাকিস্তান কি প্রমাণ লোপাটে ব্যস্ত?
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কলকাতা পুলিশ প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তবে সূত্রের খবর, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী অরুণ কুমার দাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হতে পারে। কলকাতা পুলিশের একাংশ জানিয়েছেন, মদ্যপ অবস্থায় দায়িত্ব পালন গুরুতর অপরাধ, এবং এর জন্য কড়া শাস্তি হতে পারে। সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষায়, এই ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে পুলিশ প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।





