ভারত( India) ও পাকিস্তানের(Pakistan) কূটনৈতিক সম্পর্কে বরাবরই টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে ২০১৬ সালে ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন আধিকারিক কুলভূষণ যাদবের অপহরণ এবং পাকিস্তানের সামরিক আদালতে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ভারত শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, যাদব কোনও গুপ্তচর নন, বরং ইরানে ব্যবসা করার সময় তাঁকে ষড়যন্ত্র করে অপহরণ করে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড এই বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করল।
শুক্রবার গভীর রাতে পাকিস্তানের বালোচিস্তানে ঘটল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এক ধর্মগুরু তথা গবেষককে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে একে সাধারণ অপরাধ বলে দেখানোর চেষ্টা করলেও ধীরে ধীরে সামনে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত ব্যক্তির সঙ্গে নাকি কুলভূষণ যাদবের অপহরণের সরাসরি যোগ ছিল! ফলে এই হত্যাকাণ্ড নিছক ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণ, না কি এর পেছনে আরও গভীর ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে—তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
নিহত ব্যক্তির নাম মুফতি শাহ মীর। প্রথমে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র এক ধর্মীয় গবেষক হিসেবে। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেই যুক্ত ছিলেন না, বরং পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বিভিন্ন সময় তাঁকে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিতে দেখা গিয়েছে এবং অস্ত্র ও মানব পাচারের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে দাবি করছে গোয়েন্দা মহল। আরও বড় তথ্য হল—কুলভূষণ যাদবকে অপহরণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। শুক্রবার রাতে তুরবতে এক মসজিদ থেকে বেরনোর সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইকে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি, পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
২০১৬ সালে ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে ভারতীয় নৌসেনার প্রাক্তন আধিকারিক কুলভূষণ যাদবকে অপহরণ করা হয়। পরে পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাঁকে গুপ্তচর সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়, যা নিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক আদালতে যায়। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এই রায় স্থগিত করে এবং যাদবের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের জেলে বন্দি। এদিকে, তাঁর অপহরণের সঙ্গে জড়িত আরেক ব্যক্তি, জইশ আল আদল সংগঠনের সদস্য মোল্লা ওমর ইরানিকেও ২০২০ সালে হত্যা করা হয়েছিল। এবার শাহ মীরের মৃত্যু যেন সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি।
আরও পড়ুনঃ বসন্ত ফুরোতে না ফুরোতেই দাপট দেখাচ্ছে গরম! মার্চেই উধাও আরামদায়ক হাওয়া
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান নিজেই এখন পুরনো দোসরদের সরিয়ে দিচ্ছে। যাদব অপহরণের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের একে একে নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনও তথ্য ফাঁস না হয়ে যায়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ভিতরেই যাদবের অপহরণের সত্যিটা জানে এমন লোকজনকে সরিয়ে দিয়ে আইএসআই কি কোনও নতুন ষড়যন্ত্রের ছক কষছে? এই হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীসংঘাত, না কি বাইরের শক্তির পরিকল্পনা—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। ভারতের কূটনৈতিক মহলও এই ঘটনার উপর গভীর নজর রাখছে।





