উদ্বোধনের আগেই বিসর্জন! বাংলাতেই দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, বাংলাদেশের ছায়া এপার বাংলাতেও?

দুর্গাপুজোর আর বেশিদিন বাকি নেই। যদিও আর জি করের ঘটনার জেরে পুজোর আনন্দ, উল্লাস সবই ফিকে। তবে মা তো মর্ত্যে আসবেন। তাঁর আরাধনা তো করতেই হবে। ফলে পুজোর প্রস্তুতি চলছে দিকে দিকে। এরই মধ্যে এবার এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গেল এই বাংলাতেই। দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে।

ঘটনাটি ঘটেছে সন্দেশখালির মাঝের সার্বেরিয়া নতুন মিলন সংঘ ক্লাবে। জানা গিয়েছে, গতকাল, মঙ্গলবার সকালে ক্লাবের সদস্যরা দেখেন যে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রতিমা ভেঙে পড়ে রয়েছে। গ্রামের মন্দিরের ঠিক পাশেই ঘটেছে এই ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। অভিযোগ দায়ের করা হয় ন্যাজোট থানায়।

এই ঘটনার ক্লাবের সদস্যরা গ্রামের কয়েকজন সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, কিছুদিন আগে ফজের আলি মোল্লা ও মুনছুর মোল্লা নামের দুই ব্যক্তি গ্রামের মন্দির ভাঙচুরের হুমকি দিয়েছিল। তারা নাকি বাংলাদেশি বলে দাবী ক্লাবের সদস্যদের। তারা তৃণমূলের উপপ্রধান যাদব মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে দাবী তাদের।

এই ঘটনায় বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা টানলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবী, বাংলাদেশের ধাঁচে হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুরের সংস্কৃতি এবার এপার বাংলাতেও ছড়িয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, এফআইআর করা হলেও পুলিশ এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করবে না। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করবে না কারণ তারা শাসক দলের ঘনিষ্ঠ। শুভেন্দুর কথায়, অভিযুক্তরা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক, সেই কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করবে না পুলিশ।

বলে রাখি, বাংলাদেশে প্রায়ই হিন্দু মন্দির, দেবদেবী, দুর্গা মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গেও এখন বাংলাদেশের সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে তাঁর দাবী, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের অবিলম্বে ধরে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের কাছে এই আবেদন জানান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

RELATED Articles