রাজ্যে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই অনুভূত হলো ভূমিকম্পের কম্পন। অনেকেই তখন ঘুমের ঘোরে, কেউবা দিনের প্রথম কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু সেই মুহূর্তেই টের পেলেন মৃদু কম্পন, জানালার কাঁচ কেঁপে উঠল, আসবাবপত্র যেন একটু নড়েচড়ে গেল। যারা গভীর ঘুমে ছিলেন, তারা আতঙ্কে জেগে উঠলেন। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় এই কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি এই ভূমিকম্প, তবে মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ।
গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় একের পর এক ভূমিকম্প হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ, দিল্লি—সব জায়গায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, ভূমিকম্পের মূল কারণ হল প্লেট টেকটোনিক মুভমেন্ট, যা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষত, ভারতীয় উপমহাদেশের ভূত্বকের পরিবর্তনগত কারণে মাঝেমধ্যেই এমন কম্পন অনুভূত হয়। তবে বারবার ভূমিকম্প হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ বাড়ছে। কেউ কেউ ভাবছেন, এটি কোনো বড় ভূমিকম্পের আগাম সতর্কবার্তা কিনা।
মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ এই ভূমিকম্প হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির (NCS) রিপোর্ট বলছে, কম্পনের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫.১। এর উৎসস্থল বঙ্গোপসাগরে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯১ কিলোমিটার গভীরে। কলকাতা, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। শুধু রাজ্যেই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশ ও ওড়িশাতেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে ছিল এই ভূমিকম্পের এপিসেন্টার।
ভূমিকম্পের জেরে কলকাতা শহরে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে শহরের বহু এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের ঘরবাড়ির আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে। অনেকে দৌড়ে বাইরে চলে যান। আবহাওয়াবিদ ও ভূ-বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বঙ্গোপসাগরের নীচে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলোর নড়াচড়ার ফলেই এই কম্পন। যদিও বড়সড় বিপদের আশঙ্কা নেই, তবুও সবাইকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শীতের ছোঁয়া উধাও! ফের চড়ছে পারদ, মার্চের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গে গরমের কামব্যাক!
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এটি ভবিষ্যতে বড়সড় কম্পনের ইঙ্গিত কিনা, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। যদি ভবিষ্যতে আরও ভূমিকম্প হয়, তবে কী করণীয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হতে পারে। আপাতত ভূমিকম্পের ধাক্কা কেটে গেলেও রাজ্যবাসীর মনে আতঙ্ক রয়ে গেছে।





