দিনের পর দিন সমাজে এমন সব ঘটনা ঘটছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। খুন, প্রতারণা, হিংসা—এসব যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস কমছে, অপরাধের নতুন নতুন পদ্ধতি ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে। পারিবারিক বিবাদ, সম্পত্তির লোভ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশ, এসব থেকে ঘটছে ভয়ংকর অপরাধ। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হল, দোষীরা এখন শুধু খুন করেই ক্ষান্ত থাকছে না, দেহ লোপাটের জন্যও বেছে নিচ্ছে বিভীষিকাময় পথ।
একসময় অপরাধ বলতে মানুষ চুরি বা ডাকাতির কথা ভাবত। এখন অপরাধীরা এতটাই নির্লজ্জ ও নির্মম হয়ে উঠছে যে, খুনের পর দেহ কেটে টুকরো করে ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া, অ্যাসিডে গলিয়ে দেওয়া, কিংবা রান্না করে গোপন করার মতো পৈশাচিক উপায় অবলম্বন করছে। এমন ঘটনা শুনলেই গা শিউরে ওঠে। সমাজে অপরাধের এই নতুন রূপ দেখে প্রশ্ন জাগে—মানবিকতা কি হারিয়ে যাচ্ছে? নাকি লোভ, ক্ষমতার লড়াই, এবং হিংসার দৌড়ে মানুষ পুরোপুরি অমানুষ হয়ে যাচ্ছে?
মঙ্গলবার সকালে কলকাতার এক ঘাটের কাছে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন দুই মহিলা। তাঁদের সঙ্গে থাকা নীল রঙের ট্রলিব্যাগটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে ব্যাগ খুলতেই যা দেখা গেল, তাতে স্তম্ভিত হয়ে যায় সবাই! ব্যাগের ভেতর এক মহিলার কাটা দেহাংশ। ঘটনাস্থলেই আটক করা হয় ওই দুই মহিলাকে। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।
ধৃত দুই মহিলার নাম ফাল্গুনী ঘোষ ও তাঁর মা আরতি ঘোষ। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ওই দেহাংশ ফাল্গুনীর পিসিশাশুড়ি সুমিতা ঘোষের। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, তাঁকে খুন করেই দেহ কেটে টুকরো করা হয় এবং ট্রলিব্যাগে ভরে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা চলছিল। পুলিশ আরও জানতে পারে, ধৃতদের কাছ থেকে ট্রেনের টিকিট পাওয়া গিয়েছে, যা প্রমাণ করে তাঁরা কাজীপাড়া থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত ট্রেনে এসেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ কম্পনের পর কম্পন! ভূমিকম্পে কাঁপল দক্ষিণবঙ্গ, বাংলাদেশ-ওড়িশায়ও আতঙ্ক!
তদন্তে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের ভাড়া বাড়িতেই এই খুনের ঘটনা ঘটে। তবে হত্যার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পারিবারিক বিবাদ নাকি সম্পত্তি নিয়ে কোনও দ্বন্দ্ব—সে বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশের অনুমান, খুন করার পর দেহ সরিয়ে ফেলার জন্যই তাঁরা আহিরীটোলা ঘাটে এসেছিলেন, কিন্তু তার আগেই সন্দেহের তালিকায় পড়ে যান।
এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কলকাতার আহিরীটোলা ঘাটে। পরিকল্পনা ছিল ট্রলিব্যাগটি গঙ্গায় ফেলে দেওয়ার, কিন্তু স্থানীয়দের তৎপরতায় তা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং খুনের আসল কারণ বের করার চেষ্টা করছে। তবে এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সমাজে অপরাধের মাত্রা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠছে, যেখানে রক্তের সম্পর্কও আজ নিরাপদ নয়!





