শেখ শাহজাহান প্রভাবশালী নেতা। ১৫ মিনিটের মধ্যে ৩ হাজার লোক জড়ো করার ক্ষমতা রাখেন তিনি। এমনকি জামিন পেলেই লন্ডন পালিয়ে যেতে পারেন সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা। সেই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইডি। প্রভাবশালী তত্ত্বে জোর দিয়েই এবার আদালতে খারিজ হল শেখ শাহজাহানের আগাম জামিনের আর্জি।
প্রায় ৫০ দিন হয়ে গেল কিন্তু কোনও খবর নেই শাহজাহানের। পুলিশ তাঁকে ধরতে অপারগ। বারবার ইডি তাঁকে নোটিশ পাঠালেও মেলেনি সাড়া। এদিকে আড়ালে থেকেই আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। গতকাল, শুক্রবার আদালতে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানি ছিল। এদিন আদালতে শাহজাহানকে ‘ক্ষমতাবান’, ‘প্রভাবশালী’, ‘টক অফ দ্য টাউন’ বলে উল্লেখ করলেন ইডির আইনজীবী।
ইডির কথায়, “১৫ মিনিটে তিন হাজার লোক জড়ো করে ফেলেন শাহজাহান। উনি রাজনৈতিক পদে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে পুরনো অপরাধের রেকর্ডও। খুনের ধারাতে মামলার পরেও গ্রেপ্তার হননি শাহজাহান। সরকারি দপ্তরে হামলার ঘটনাতেও শাহজাহানের সরাসরি যোগ রয়েছে। এই মামলাতে পুলিশের তরফে তাকে ‘ফেরার’ বলে জানানো হয়েছে”।
আদালতে ইডির আইনজীবী প্রশ্ন রাখেন, “দোষী না হলে পালিয়ে বেরোচ্ছেন কেন? আমরা তদন্তে করতে তাঁর বাড়িতে যাই। তাঁর বাড়ি দুদিক থেকে বন্ধ ছিল। আমরা ফোন করি। দুবার ফোন ধরে। আমরা নিজেদের পরিচয় দিই। তার পর ফোন কেটে দেন। ফোন ব্যস্ত হয়ে যায়। ১৫-২০ মিনিটে অন্তত এক হাজার লোক চলে আসে। আমরা প্রবেশ করতে পারিনি। যখন সেই ঝামেলা শুরু হয়। পুলিশ পৌঁছয়। আধিকারিকদের উদ্ধার করে। পুলিশ আসে। ৩ জন আহত হন। একজন গুরুতর আহত হন। এই ঘচনার ইডির অভিযোগে ন্যাজাট থানাতে একটি মামলা হয়। কেস নম্বর ৯। তার আগে পুলিশ একটি স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর করে। পুলিশের এফআরআই অনুযায়ী ৩ হাজারের মতো লোক ছিল। তখন যা পরিস্থিতি ছিল তাতে কতজন লোক ছিল সেটা আমাদের পক্ষে নির্দিষ্ট করে বলা হয়তো মুশকিল। কিন্তু খোদ পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলাতে উল্লেখ ৩ হাজার লোক জড়ো হয়েছিলেন। এই মামলার এফআইআর নম্বর ছিল ৮। আরও একটি মামলা হয় দিদার মোল্লার অভিযোগে। যেখানে বলা হয়েছে, ইডি অফিসার চুরি করেছেন। শ্লী’ল’তা’হা’নি করেছেন। কলকাতা থেকে আইনজীবী গিয়ে সেই অভিযোগের বয়ান লিখলেন। এই তথ্যগুলো দিচ্ছে এটা বোঝাতে যে শাহজাহান কতটা প্রভাবশালী যে তিনি ১৫০০ বা ৩ হাজার লোক জড়ো করতে পারেন মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে। ৫০ দিন ধরে পলাতক। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরছে না কেন আমরা জানি না”।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শাহজাহানের আইনজীবী। তিনি আদালতে বলেন, “৩ ফেব্রুয়ারি আগাম জামিনের আবেদন করা হয়। তা নানা সংবাদমাধ্যমে দেখায়। এর পর আমার বাডি টার্গেট করা হয়। গ্রামবাসীরা টার্গেট করে। তাহলে সেই একই গ্রামের লোকেরা কীভাবে ইডিকে আটকাতে আসবে? এমন কী ঘটল যে পুরো বিষয়টা বদলে গেল? এবং গ্রামের লোকরা তাঁর গ্রেপ্তারির দাবিতে সওয়াল করতে শুরু করলেন? যদি শাহজাহান তাঁদের জড়ো করেন ইডিকে আটকাতে তবে পরে তাঁরা আমার বাড়ি কেন ভাঙতে আসবেন? এটা ‘সারপ্রাইজ অ্যাটাক’। আমাদের জানার কথা নয়। মব হ্যাজ রাইট টু রিয়্যাক্ট”। তবে এদিন আদালতে সওয়াল জবাবের পর শাহাজাহানের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেয় আদালত।





