বর্তমানে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতিতে জেল খাটছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা। তারা দু’জনেই অবশ্য বলেছেন, সে টাকা তাদের নয়। তাহলে সেই টাকা কার? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। এছাড়াও একাধিক নামী-বেনামী সম্পত্তির হদিশ মিলেছে পার্থর। কোনও মন্ত্রীর এত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দেখে চোখ কপালে তদন্তকারী আধিকারিকদের।
বাংলার নেতা-মন্ত্রীদের সম্পত্তির পরিমাণ এতটা হঠাৎ কীভাবে বাড়ছে, তা যাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা ইডি খতিয়ে দেখে, এমনই আর্জি জানানো হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। এবার এই মামলায় ইডি-কে তদন্ত করার নির্দেশ দিল আদালত।
আইনজীবী শামি আহমেদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে এই আর্জি জানিয়েছিলেন। তিনি ১৯ জন নেতা-মন্ত্রীর নামের তালিকা তৈরি করে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি হিসাব দিয়ে তা হাইকোর্টে পেশ করেন। এতে দেখা গিয়েছে যে ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই নেতা-মন্ত্রীদের সম্পত্তির পরিমাণ বিপুল বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পাঁচ বছরের মধ্যে এদের সম্পত্তি এত কীভাবে বাড়ল, তা যাতে ইডি খতিয়ে দেখে, এমনই আর্জি জানান ওই আইনজীবী। এবার এই মামলায় ইডির তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।
যে সমস্ত নেতা-মন্ত্রীদের নাম ওই তালিকায় রয়েছে, তারা প্রায় সকলেই শাসক শিবিরের নেতা। এরা হলেন ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক, মদন মিত্র, শিউলি সাহার পাশাপাশি, অমিত মিত্র, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এমনকি, প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে, প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহের নামও রয়েছে। রয়েছে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও।
শামিম আহমেদ আদালতে জানান যে ই সমস্ত নেতা-মন্ত্রীদের সম্পত্তি বিপুল পরিমাণে বেড়েছে পাঁচ বছরের মধ্যেই। এদের অনেকেরই পৈতৃক সম্পত্তি তেমন না থাকা সত্ত্বেও তাদের সম্পত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে হু হু করে। দেখা গিয়েছে এদের অনেকের স্ত্রীই গৃহবধূ, কিন্তু পাঁচ বছরে তাদের সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ২৫০ শতাংশেরও বেশি।





